Site icon Hindustan News Point

আগামী বছরেই ভারত সফরে ট্রাম্প? বড় ইঙ্গিত মার্কো রুবিওর, শেষ পর্যায়ে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

US-India Trade Deal

[ছবি:এক্স]

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতেই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে, ভারত-আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনাধীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিও (US-India Trade Deal) এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন আমেরিকান বিদেশমন্ত্রী।

(US-India Trade Deal) আগামী বছরের শুরুতেই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে আসতে পারেন। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে “দুর্দান্ত” পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মার্কো রুবিও বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্টের ভারত সফর আয়োজন করতে পারব। ভারত আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং মিত্র দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কও অত্যন্ত দৃঢ়, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব এবং ভারতের বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও প্রশংসা করেছেন রুবিও। তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাজের বড় ভক্ত। তিনি এমন একটি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি করছে এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান ক্রমশ আরও সুদৃঢ় করছে।”

আরও পড়ুন :-  হায়দরাবাদের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ দেখে আবেগঘন ধন্যবাদ ট্রাম্পের

যদি এই সফর বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটাই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ভারত সফর এবং দ্বিতীয়বার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর প্রথম ভারত সফর। সম্প্রতি ফ্রান্সের ইভিয়াঁয় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছিল, যা ছিল গত ১৬ মাসের মধ্যে তাঁদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আমেরিকা সফর করেন। সেই সফরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

(US-India Trade Deal) যদিও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক গত কয়েক মাসে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ২৫ শতাংশ পারস্পরিক (Reciprocal) শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হয়, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। তবে পরবর্তীতে আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বর্তমানে ভারতীয় রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশের মৌলিক শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, ভারত-আমেরিকার চলমান বাণিজ্য আলোচনায় আমেরিকান Trade Act of 1974-এর Section 301 একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভারতীয় আলোচকরা এই শুল্ক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান চেয়েছেন এবং চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তির (US-India Trade Deal) আগে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমেরিকান ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে Section 301-এর আওতায় পূর্ববর্তী শুল্ক কাঠামো পুনর্বহাল করা হতে পারে। ফলে, দুই দেশের মধ্যে (US-India Trade Deal) বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রশ্ন এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু মতপার্থক্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সমস্ত মতপার্থক্য সত্ত্বেও, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি উভয়েই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই জোর দিচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন :-  ‘ড্রেসিং টেবিল-খাট-বালিশ-৫টা এসি!’ বিধাননগরের ওয়ার্ড অফিস, হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়


Exit mobile version