বালোচিস্তানে স্বাধীনতার দাবিতে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নতুন করে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের অন্তত ১২টি শহরে একযোগে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত চলা এই হিংসায় মোট অন্তত ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯২ জন বালোচ বিদ্রোহী, ১৫ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তারক্ষী এবং ১৮ জন সাধারণ নাগরিক। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন।
বালোচ সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, কোয়েটা, গাদর, মাকরান, হাব, মাস্তাঙ্গ, চামান, নাসিরাবাদ ও নুশকি-সহ একাধিক শহরে থানা, জেল ও সেনা ছাউনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ফেডারাল তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, নাসিরাবাদে রেললাইনে পুঁতে রাখা বোমা সময়মতো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে গাদরে সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করে BLA জানিয়েছে, এটি তাদের ‘অপারেশন হেরোফ’-এর দ্বিতীয় দফা। সংগঠনের মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ নুশকিতে সেনা ছাউনির দখল নেওয়ার দাবি করলেও পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করেছে। পাল্টা অভিযানে পাকিস্তান সেনা জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ১৩৩ জন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে।
এদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সেনার প্রশংসা করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি অভিযোগ করেছেন, এই হামলায় ভারত BLA-কে সহায়তা করছে—যা নয়াদিল্লি আগেই স্পষ্টভাবে নস্যাৎ করেছে। আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা ও তেহরিক-ই-তালিবানের তৎপরতার মধ্যেই বালোচিস্তানে এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।











