ফের অশান্ত পাকিস্তান। এ বার ওড়ানো হলো পাকিস্তান পুলিশের গাড়ি। ঘটনাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলার। সেখানে IED বিস্ফোরণ করে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি উড়িয়ে দিল জঙ্গিরা। এই হামলায় এক পুলিশ আধিকারিক-সহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একটি রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে আর সেই সময়ে গাড়িটি উড়ে যায়। একটি রিমোট-কন্ট্রোল বোমার সাহায্যে টহলরত গাড়িটিকে উড়িয়ে দেওয়া হয় বলে খবর। মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণে লোহার সেই ভারী গাড়িটি রাস্তার ধারে খেলনার মতো উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। (Pakistan)
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেই ভিডিয়োতে আরও দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের পর রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছে জঙ্গিরা। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের তালিকায় একজন স্টেশন হাউস অফিসার ও একজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসারও রয়েছেন। (Pakistan)
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের শান্তিরক্ষার স্বার্থে এই জওয়ানরা আজ আত্মবলিদান দিলেন।’ গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন প্রদেশগুলিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করেই বারংবার চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি, যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। (Pakistan)
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে কূটনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। পাকিস্তানের দাবি, প্রতিবেশী আফগান তালিবানরা টিটিপি জঙ্গিদের নিজেদের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগানিস্তান সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। গত অক্টোবর মাসে দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, সোমবারের এই ঘটনা তাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। (Pakistan)











