দিনের আলোয় অন্য সব শিশুর মতো দৌড় ঝাঁপ, খেলাধুলো, হাসি— সবই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সূর্য ডুবতেই যেন বদলে যেত জীবন। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ত শরীর, বন্ধ হয়ে আসত কথা বলা ও চলাফেরা। (Pakistan Solar Kids) পাকিস্তানের দুই ভাইয়ের এই অবিশ্বাস্য অবস্থাই একসময় বিশ্ব জুড়ে চিকিৎসকদের সামনে তুলে ধরেছিল এক বিরল চিকিৎসা রহস্য— যাদের সবাই চিনতে শুরু করে ‘সোলার কিডস’ নামে।
পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করত দুই ভাই, আবদুল রশিদ ও শোয়েব আহমেদ। ২০১৬ সালে প্রথম তাদের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় চিকিৎসকরা যখন তাদের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ শুরু করেন, তখন সামনে আসে এমন এক বাস্তবতা যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিচিত ব্যাখ্যার বাইরে বলেই মনে হয়েছিল।
সূত্র অনুযায়ী, দিনের বেলায় দুই ভাই প্রায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকত। তারা হাঁটত, খেলত, কথা বলত এবং অন্য শিশুদের মতোই আচরণ করত। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই শরীরে দেখা দিত বড় পরিবর্তন। তারা দুর্বল হয়ে পড়ত, ঠিকভাবে নড়াচড়া করতে পারত না, এমনকি কথা বলাও কঠিন হয়ে যেত।
তাদের বাবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে এই পরিবর্তন দেখা যেত। সেই অদ্ভুত কারণেই গ্রামের মানুষ তাদের নাম দেয়— ‘সোলার কিডস’ (Pakistan Solar Kids)। যদিও চিকিৎসকেরা শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছিলেন, সূর্যের আলো সরাসরি এই অবস্থার কারণ নয়।
পাকিস্তানের জাফর এক্সপ্রেসে আত্মঘাতী হামলা, নিহত কমপক্ষে ১৬, জখম ৩০
ঘটনাটি চিকিৎসকদেরও বিভ্রান্ত করে দেয়। শুরুতে নানা সম্ভাবনা নিয়ে ভাবা হয়— বিপাকীয় সমস্যা থেকে শুরু করে অজানা স্নায়বিক রোগ পর্যন্ত। এরপর রক্ত পরীক্ষা, মস্তিষ্কের স্ক্যান এবং জেনেটিক পরীক্ষা করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ডোপা-রেসপনসিভ ডিস্টোনিয়া (Dopa-responsive dystonia) নামের একটি বিরল স্নায়বিক রোগের সম্ভাবনা। এটি সেগাওয়া ডিজিজ নামেও পরিচিত। এই রোগ সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং শরীরের চলাচল ও পেশির নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে।
(Pakistan Solar Kids) রোগটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ডাইআর্নাল ফ্লাকচুয়েশন— অর্থাৎ দিনের বিভিন্ন সময়ে উপসর্গের তীব্রতা বদলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দিন শেষে সমস্যা বাড়ে এবং বিশ্রাম বা ঘুমের পর কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্য পাকিস্তানের দুই ভাইয়ের অবস্থার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এর সঙ্গে শরীরের ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের সম্পর্ক থাকতে পারে। ডোপামিন মানুষের চলাফেরা ও সমন্বয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ডোপামিন-সম্পর্কিত ওষুধ দেওয়ার পর দুই ভাইয়ের অবস্থার কিছু উন্নতি হয়েছিল। তারা আগের তুলনায় বসতে, হাঁটতে ও নড়াচড়া করতে পারছিল। তবে এটিকে সম্পূর্ণ সুস্থতা বলা হয়নি। কোনো বড় চিকিৎসা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় বা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল প্রকাশ করেনি।
আজও (Pakistan Solar Kids) পাকিস্তানের ‘সোলার কিডস’-এর গল্প চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি। কারণ এই ঘটনা শুধু একটি বিরল রোগের সম্ভাবনাই নয়, মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র ও জেনেটিক রহস্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
লাইভ সম্প্রচারের মাঝেই বন্দুকবাজের হামলা, আতঙ্ক হোয়াইট হাউসে

