Site icon Hindustan News Point

USA vs Russia: আমেরিকার ঘাঁটির তথ্য ইরানকে দিচ্ছে মস্কো! ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগে বাড়ল উত্তেজনা

USA vs Russia

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলসের দাবি, আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির সামরিক ঘাঁটি, সেনা চলাচল এবং কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে মস্কো। শুধু তথ্যই নয়, ড্রোন প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ কৌশলগত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। (USA vs Russia)

প্যারিসে G7 সামিটে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, “রাশিয়া এবং ইরানের সম্পর্ক এখন শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে নেই। মস্কো এমন সব তথ্য ও সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে আমেরিকান সেনা এবং পশ্চিমী ঘাঁটিকে টার্গেট করা সম্ভব হচ্ছে।” তাঁর আরও দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত যেভাবে বেড়েছে, তারই পাল্টা কৌশল হিসেবে মস্কো এখন পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিরুদ্ধে নতুন চাপ তৈরি করতে চাইছে। (USA vs Russia)

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে রাশিয়া। কারণ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরেও তেল রফতানি থেকে বিপুল মুনাফা তুলছে মস্কো। ইউরোপীয় সূত্রের দাবি, জানুয়ারি মাসে রাশিয়ার দৈনিক তেল আয় ছিল প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেই আয় আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা।

অন্যদিকে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করছে। এখন তারা রাশিয়ার উপর দোষ চাপিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সম্প্রতি এক বৈঠকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।” যদিও তিনি সরাসরি আমেরিকার নাম নেননি, তবু আন্তর্জাতিক মহলের মতে তাঁর মন্তব্য স্পষ্টভাবেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশেই ছিল। (USA vs Russia)

এদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি জানিয়েছেন, “ইরান বহুদিন ধরেই রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত সহায়তা পাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বাড়লে তার প্রভাব ইউরোপেও পড়তে পারে।” তাঁর আশঙ্কা, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে একাধিক দেশ। আমেরিকা তাদের পশ্চিম এশিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। (USA vs Russia)

এক মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিকের কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইরান, রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের এই সংঘাত আরও বড় আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হতে পারে।”

যুদ্ধ থেমেছে, না শুধু বিরতি? ট্রাম্পের দাবিতে মার্কিন-ইরান সংঘাতে নতুন বিতর্ক


Exit mobile version