Site icon Hindustan News Point

‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’, প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা শেখ হাসিনার

Sheikh Hasina

[ছবি:এক্স]

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রায় দুই বছর ধরে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গিয়েছে তাঁকে। দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় কার্যত আড়ালেই ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina) শেখ হাসিনা। নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

তবে এবার ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী (Sheikh Hasina)। জানালেন, সমস্ত বাধা, ষড়যন্ত্র এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়ের হুমকি উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরেই বাংলাদেশে ফিরবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং নিজের নির্বাসিত জীবন নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।

প্রায় দুই বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে (Sheikh Hasina) শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, তাঁর দেশে ফেরা কোনও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের অংশ। NDTV-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্যই আমার রাজনীতি।”

বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমার প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। ২১ অগস্ট গ্রেনেড হামলার মুখোমুখি হয়েছি। সমস্ত ষড়যন্ত্র অতিক্রম করেই আমি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সব বাধা অতিক্রম করে এ বছরই আমি আমার দেশে ফিরব।”

দু’বছর পর অপেক্ষার অবসান! বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু ভারতের টুরিস্ট ভিসা, উচ্ছ্বাস হিলি সীমান্তে

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী (Sheikh Hasina) শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনও কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস এবং বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।” তাঁর দাবি, গত ৭৭ বছরের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ ও আক্রান্ত হলেও প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ফিরে এসেছে দলটি।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী BNP সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, “অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, উগ্রবাদ বেড়েছে, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চলছে।”

(Sheikh Hasina) শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামে প্রতিদিন দলের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঠেকাতে সেনাবাহিনী, BGB এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এটি সরকারের শক্তির নয়, দুর্বলতার পরিচয়।”

বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধাঁচের রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন (Sheikh Hasina) শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর পরিকল্পিত আক্রমণ চলছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাঙচুর, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান সেই চিত্রকেই সামনে আনছে।

আগামী বছরেই ভারত সফরে ট্রাম্প? বড় ইঙ্গিত মার্কো রুবিওর, শেষ পর্যায়ে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

নিজের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় পৌঁছেছিল ২,৭৯৩ মার্কিন ডলারে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল, বিদ্যুৎ পৌঁছেছিল দেশের শতভাগ মানুষের কাছে, স্থাপন করা হয়েছিল ১৪,৯৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং প্রায় ৪২ লক্ষ ৮০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে জমি-সহ বাড়ি দেওয়া হয়েছিল।

BNP এর সঙ্গে গোপন সমঝোতার জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের ভোটাধিকার কোনও গোপন দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না। আওয়ামী লীগ কারও করুণা চায় না, জনগণের শক্তিতেই রাজনীতি করে।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে (Sheikh Hasina) শেখ হাসিনা বলেন, “সংখ্যালঘুদের উপর হামলা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার উপর হামলা।” তাঁর অভিযোগ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া এবং সুফি সম্প্রদায়ের মানুষ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট, নারীদের উপর অত্যাচার এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত জীবন বলতে প্রায় কিছুই নেই। আমার হৃদয় বাংলাদেশের মাটিতেই পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন আমি দেশের পরিস্থিতির খোঁজ রাখি, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করি।”

সাক্ষাৎকারের শেষে শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আমি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই আছি, শেষ দিন পর্যন্ত থাকব।”

‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজন’ সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী


Exit mobile version