লেবাননে ইজরায়েল-হেজবুল্লার (Israel Hezbollah Conflict) নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে স্থগিত হয়ে গেল বহুল প্রত্যাশিত আমেরিকা-ইরান আলোচনা। সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে তেহরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য গড়ে ওঠা যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বৈঠক
শুক্রবার নির্ধারিত ছিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে দক্ষিণ লেবাননে (Israel Hezbollah Conflict) ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লার মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলির দাবি, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে, আলোচনায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সেই কারণেই ইরানি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ড যাত্রা করেনি। একই সঙ্গে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও নিজের সফর বাতিল করেন।
(Israel Hezbollah Conflict) ইজরায়েল-হেজবুল্লার সংঘর্ষে বাড়ছে উত্তেজনা
গত কয়েক দিনে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, হেজবুল্লার হামলায় চার সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
While Hezbollah are committed to violating the ceasefire and creating instability, we are committed to protecting our civilians and operating against terror. pic.twitter.com/B6KLQRF93G
— Israel Defense Forces (@IDF) June 19, 2026
ইজরায়েলের দাবি, হেজবুল্লা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের ট্যাঙ্ক ও সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে নাবাতিয়েহ এবং বেকা উপত্যকা-সহ একাধিক এলাকায় হেজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইজরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হেজবুল্লাকে “ভারী মূল্য” দিতে হবে।
অন্যদিকে হেজবুল্লা জানিয়েছে, তাদের হামলা ছিল ইজরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়া। সংগঠনটির দাবি, নাবাতিয়েহর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড় দখলের চেষ্টা করছিল ইজরায়েলি বাহিনী। (Israel Hezbollah Conflict) সংঘর্ষের জেরে দক্ষিণ লেবাননের বহু বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
১১০ দিনের সংঘাতের পর শান্তির বার্তা, চুক্তিতে সই আমেরিকা-ইরানের
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই (Israel Hezbollah Conflict) সংঘর্ষই বর্তমানে আমেরিকা-ইরান সমঝোতার সবচেয়ে দুর্বল অংশ। কারণ, চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনীর অবস্থান নিয়ে এখনও বড় মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান চাইছে ইজরায়েল সেনা প্রত্যাহার করুক, তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে সেনারা সেখানে অবস্থান করবে।
সুইজারল্যান্ডে স্থগিত হওয়া বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। তেহরান দাবি করে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র মতে, ইরানের কাছে এমন মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে যা চাইলে একাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
পরমাণু কর্মসূচি ও তেলের বাজারে বড় প্রভাব
চলতি বছরের অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ পরমাণু সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচকদের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও প্রয়োজন হলে তা বাড়ানো হতে পারে। চুক্তি সফল হলে ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার মতো সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই কিছু ছাড় পেয়েছে তেহরান। আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলির ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করেছে এবং দেশটিকে অবাধে তেল রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেই ওই জলপথ দিয়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিবহণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া কি ফের সংকটে?
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, লেবাননের সংঘর্ষ দ্রুত থামানো না গেলে শুধু আমেরিকা-ইরান আলোচনা নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াই নতুন করে বিপদের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও আবার অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দিল্লিতে পরিচারিকাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, খুনের নেপথ্যে স্ত্রী-র সঙ্গে বিবাদ?

