---Advertisement---
lifezone nursing home

দিল্লিতে পরিচারিকাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, খুনের নেপথ্যে স্ত্রী-র সঙ্গে বিবাদ?

June 19, 2026 8:31 PM
Mount Kailash Murder Case
---Advertisement---

দিল্লির অভিজাত মাউন্ট কৈলাশ এলাকার এক হত্যাকাণ্ডে (Mount Kailash Murder Case) সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৫ বছর ধরে বাড়িতে কাজ করা পরিচারিকা মীনা (৪৫)-কে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনীশ গুপ্ত। প্রথমে কালাজাদু বা ‘নেগেটিভ এনার্জি’-র সন্দেহকে কেন্দ্র করে হত্যার জল্পনা তৈরি হলেও তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশের দাবি, পরিচারিকাকে কাজ থেকে সরানো নিয়ে স্ত্রী ও চিকিৎসকের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ এবং পারিবারিক মানসিক টানাপোড়েনই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির মাউন্ট কৈলাশে নিজের বাড়ির ছাদে মীনাকে প্রথমে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারধর এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মনীশ গুপ্তের বিরুদ্ধে। (Mount Kailash Murder Case) ঘটনার পর শুক্রবার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ।

দক্ষিণ-পূর্ব জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) হেমন্ত তিওয়ারি জানিয়েছেন, সম্প্রতি মনীশ গুপ্ত তাঁর স্ত্রী, যিনি একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, তাঁর সঙ্গে মীনাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু গুপ্তের স্ত্রী সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। কারণ, ক্যানসারে আক্রান্ত মনীশের মায়ের দীর্ঘ চিকিৎসাকালীন সময়ে মীনা পরিবারের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিষয়টি মনীশ গুপ্তের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি হয়তো মনে করতে শুরু করেছিলেন যে পরিবারের কাছে তাঁর গুরুত্ব পরিচারিকার চেয়েও কম হয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার কিছুক্ষণ আগেও মীনা এবং চিকিৎসকের মধ্যে কোনও বচসা হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পুলিশ জানিয়েছে, মনীশ গুপ্ত প্রায় এক দশক ধরে অবসাদ (ডিপ্রেশন) এবং অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD)-র চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধও সেবন করছিলেন। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, মানসিক অসুস্থতা থাকলেই এই অপরাধের ব্যাখ্যা মেলে না এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্লাস ১২-এর পর পড়াশোনা ছাড়ার পরামর্শ সফল ব্যবসায়ী, কেন?

(Mount Kailash Murder Case) ঘটনার দিন সকাল ১১টা ৩৬ মিনিট নাগাদ এক প্রতিবেশী পুলিশে ফোন করে জানান, পাশের বাড়ির ছাদে এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে মীনার নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনীশ গুপ্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মকর্তাদের দেখে তিনি নাকি বলেন, “আমি আত্মসমর্পণ করছি।” ঘটনাস্থল থেকে একটি ক্রিকেট ব্যাট এবং রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। (Mount Kailash Murder Case) স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য গৃহকর্মীদের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ওই বাড়ির ছাদ থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। সেই সময় মনীশ গুপ্তের স্ত্রী নিজের নার্সিংহোমে ছিলেন।

এদিকে মীনার পরিবারের সদস্যরা এখনও ঘটনার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মীনার ছেলে রবিন জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতোই তাঁর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনে জানতে পারেন তাঁর মাকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রথমদিকে তাঁদের পুরো ঘটনা জানানো হয়নি এবং মীনার দেহও দেখতে দেওয়া হয়নি।

মীনার ভাই শুভ ধর্গলও প্রশ্ন তুলেছেন, ঠিক কী কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটল তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। (Mount Kailash Murder Case) মীনার সহকর্মী পূজা ভার্মা জানিয়েছেন, মীনা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং এলাকার অনেকেই তাঁকে চিনতেন। তিনি বহু বছর ধরে ওই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, এক প্রতিবেশী চিকিৎসক মনীশ গুপ্তকে ‘খুবই ভদ্র এবং ভালো মানুষ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, কখনও কোনও অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়েনি। ফলে (Mount Kailash Murder Case) এমন ঘটনার খবর তাঁদেরও বিস্মিত করেছে।

উল্লেখ্য, মণীশ গুপ্ত ১৯৯৯ সালে জয়পুরের SMS মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS পাশ করেন। পরে দিল্লির জিবি পন্ত হাসপাতাল এবং AIIMS এ কাজ করেন। ২০০৫ সালে চর্মরোগবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালে মাউন্ট কৈলাশ এলাকায় ব্যক্তিগত চেম্বার শুরু করেন।

(Mount Kailash Murder Case) বর্তমানে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য, গৃহকর্মী এবং পুলিশে ফোন করা ব্যক্তির বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, হত্যার ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং কোন পরিস্থিতি এই নৃশংস পরিণতির দিকে নিয়ে গেল, তার পূর্ণ চিত্র সামনে আনা।

EPF গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি, সুদের টাকা জমা পড়বে শীঘ্রই; জেনে নিন কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment