ভারতের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। মুখস্থবিদ্যার উপর নির্ভরশীল এই কাঠামো তরুণদের দক্ষ করে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও CIO সৌরভ মুখোপাধ্যায় (Saurabh Mukherjea)। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর কর্মজগতে প্রবেশ করা কলেজে যাওয়ার চেয়ে বেশি লাভজনক হতে পারে।
মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস— ভালো চাকরি পেতে হলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অপরিহার্য। তবে সেই ধারণাকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন খ্যাতনামা বিনিয়োগকারী এবং মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার (CIO) সৌরভ মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে (Saurabh Mukherjea) তিনি দাবি করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও মূলত মুখস্থবিদ্যার উপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষায়, “রাট্টা মারো আর পরীক্ষায় উগরে দাও”— এই পদ্ধতিই এখনও দেশের স্কুল ও কলেজ শিক্ষার ভিত্তি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যান (EV), বায়োটেকনোলজি, ক্লিন টেক এবং আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এই শিক্ষা পদ্ধতি তরুণদের বাস্তব দক্ষতা গড়ে তুলতে পারছে না।
(Saurabh Mukherjea) তাঁর দাবি, কলেজ ডিগ্রির প্রকৃত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো পর্যাপ্ত তথ্য ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। তিনি বলেন, “প্রতি ১০০ জন গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে মাত্র তিনজন স্নাতক হওয়ার বছরেই চাকরি পাচ্ছেন।” তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দিচ্ছে যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
তিনি আরও বলেন, ভারতে স্নাতকদের বেকারত্বের হার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, যেখানে নিরক্ষর মানুষের ক্ষেত্রে সেই হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি। তাই তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “ভারতে অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়াই ভালো।”
শুধু কলেজ নয়, সমস্যার শুরু স্কুল স্তর থেকেই বলে মনে করেন এই বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ। (Saurabh Mukherjea) তাঁর অভিযোগ, স্কুলের পাঠ্যক্রমও শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানোর বদলে মুখস্থ করে পরীক্ষায় নম্বর তোলার দিকে বেশি জোর দেয়। ফলে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে দেশ।
(Saurabh Mukherjea) তাঁর কথায়, “আমরা না AI-এ এগোতে পারছি, না EV-তে, না বায়োটেকে, না ক্লিন টেকে।” তাঁর মতে, এর অন্যতম কারণ হল চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার বদলে মুখস্থবিদ্যার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।
নিজের লেখা বই ‘Breakpoint’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভারতের অনেক সফল ও উচ্চ আয়ের মানুষ কলেজ ডিগ্রিধারী নন। বরং দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পরই তাঁরা কর্মজগতে প্রবেশ করেছেন এবং দক্ষতার ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মুম্বইয়ের শ্রমবাজারের উদাহরণ দিয়ে সৌরভ মুখোপাধ্যায় বলেন, অনেক সময় একজন গ্র্যাজুয়েট অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চাকরির পিছনে ছুটে যে বেতন পান, তার চেয়ে বেশি আয় করেন নির্মাণক্ষেত্রের শ্রমিকরা। তাঁর দাবি, “একজন নির্মাণ শ্রমিক অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ আয় করতে পারেন। আর একজন JCB অপারেটর তার থেকেও বেশি উপার্জন করেন।”
(Saurabh Mukherjea) সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের মতে, এটি শুধু শিক্ষার সংকট নয়, দেশের অর্থনীতিরও বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থবিদ্যার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের কীভাবে চিন্তা করতে হয়, সমস্যা সমাধান করতে হয় এবং নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হয়, তা শেখাতে হবে। তাঁর মতে, তবেই শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান ফাঁক কমানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন :- আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে কলকাতার আবহাওয়া?












