পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের ওপর আমেরিকার করা এক “ব্যাপক হামলায়” ইরানের বহু শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে একটি সমঝোতায় আসার অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ না মানলে যে বড়সড় বিপদ হতে পারে সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘Truth Social’ এ একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেই ভিডিয়োতে বিস্ফোরণের একটি দৃশ্য দেখা যায়। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এই বড় হামলায় অনেক ইরানি সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইরানের একাধিক শীর্ষ কমান্ডারকে “খতম” করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে আসার পর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। (US-Iran War)
ইতিমধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রতিমুহূর্তে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। একদিকে আমেরিকা ইরানে তাদের নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, আর অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছন, “হয় একটা চুক্তিতে আসুন অথবা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খুলুন, না হলে বিপদ ঘটবে।” এমনই হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
Mamata Banerjee: মমতার কপ্টারের উপরে রহস্যময় ড্রোন, মালদহে প্রচারে গিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য গত ২৬ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন ইরানের অনুরোধেই তিনি আগামী ১০ দিনের জন্য ইরানের উপর হামলা করবেন না। সেই সময়সীমার আর মাত্র ২ দিন বাকি। এরই মধ্যে সম্পূর্ণ ভোল বদলে ট্রাম্প আবার এই হামলার ভিডিয়ো সামনে এনেছেন। এই ঘটনার ফলে ইরান আমেরিকার সংঘাত নতুন করে বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব শুধু দুই দেশের ওপরেই নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের উপরও পড়তে পারে। (US-Iran War)
মজার বিষয়, কিছুদিন আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং ইরানের অনুরোধে হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি আবার আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সামরিক মুখপাত্র সতর্কতা জারি করে বলেছেন, যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি ঘাঁটিতে হামলা হয়, তাহলে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও বড় পাল্টা আঘাত হানা হবে। (US-Iran War)
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সমাজ মাধ্যমের শেয়ার করা ভিডিয়োটি কতটা সত্য এবং এর পরিবর্তে ইরানের তরফে কী প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের। তবে ঘটনা সত্যি প্রমাণিত হলে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা যে আদতে কমবে না বরং আরও বড় আকার নেবে সেটা সকলের কাছেই স্পষ্ট।

