পশ্চিম এশিয়ার বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে আবার একবার শেষবারের মতো শান্তির প্রস্তাব নিয়ে ইরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো আমেরিকার তরফের একটি প্রস্তাব ইরানের হাতে তুলে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতকে দ্রুত শেষ করা।
বর্তমানে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইজরায়েলের লেবানন আক্রমণ, অন্যদিকে ইসলামাবাদের অসফল শান্তি বৈঠক সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই অবস্থায় অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দুই দেশ যদি দ্রুত একটি সমঝোতায় না আসে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। (Iran-US War)
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতেই গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠক কোনও চূড়ান্ত সমাধান এনে দিতে পারেনি। বরং বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠকে হরমুজ প্রণালী থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহমত হয়নি ইরান এবং আমেরিকা, ফলে শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। এই প্রেক্ষাপটেই আসিম মুনিরের ইরান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বুধবার মুনির মূলত আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছেন ইরানে। এই প্রস্তাব ঠিক কী, তা প্রকাশ্যে বিস্তারিতভাবে জানানো না হলেও, কূটনৈতিক মহলের ধারণা—এটিকে যুদ্ধ থামানোর জন্য একটি ‘শেষ চেষ্টা’ও বলা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন পাকিস্তানের এই প্রস্তাবের ফলে আগামী দিনে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে ফের একটি শান্তি বৈঠক হতে পারে। আর এই গোটা বিষয়ে পাকিস্তান ফের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাইছে। যদিও সেই বৈঠক হলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে সেই নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। (Iran-US War)
ইতিমধ্যে শেষ বৈঠক সফল না হওয়ায় হরমুজ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ বিরতির নীতি না মানায় ফের হরমুজের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। তবে এবার সমস্ত সংঘর্ষ মিটিয়ে যুদ্ধ শেষের পথেই হাঁটতে চাইছে দুই দেশ।
বুধবার রাতেই তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর সময়ে তাঁর পরনে ছিল সামরিক পোশাক। তাঁকে সেখানে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সূত্রের খবর, ইরানের প্রশাসনিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুনির এবং শীঘ্রই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আবারো একটি বৈঠক হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই বৈঠকেই হয়তো পাকাপাকিভাবে যুদ্ধ ও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবে দুই দেশ। এখন দেখার, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ আদৌ কোনও ইতিবাচক ফল এনে দিতে পারে কিনা। (Iran-US War)











3 thoughts on “Iran-US War: মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে ইরানে পৌঁছলেন মুনির, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কি শেষ হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত?”