ভয়ঙ্কর ঘটনা পাকিস্তানে। সেনার বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়ল। পাক সেনার অগ্রাসন ও নির্যাতনে ফুঁসছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের। আহত কমপক্ষে ২০০ জন। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন এই অঞ্চলের মানুষ। তবে সেই আন্দোলন ভয়ঙ্কর রূপ নিল।
আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন করাচ্ছে পাক সরকার। তবে তার আগেই নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’-কে নিষিদ্ধ করে দেয় সরকার। আর সেটা নিয়েই মানুষের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়। এই কমিটি এই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করত। পাক সরকার বুঝতেই পেরেছিল, এই নির্বাচনে ফল তাঁদের বিরুদ্ধে যাবে। অভিযোগ, সেই আশঙ্কা থেকেই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে নিয়েই ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’-কে নির্মূল করতে মাঠে নেমে পড়েছিল পাক সরকার। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল জেএসি। কিন্তু তার আগেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল (Pakistan Occupied Kashmir Deaths)।
জানা যায়, রাওয়ালকোটের এক সরকারি হাসপাতালের মর্গে এক আন্দোলনকারীর দেহ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে সেখানেই জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শান্তিপূর্ণ জমায়েতের মধ্যেই পাক সেনা ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। মূহুর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র, বোমা মজুত করা ছিল। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। হাসপাতালের মর্গে যাঁর দেহ রাখা আছে, তিনিও পুলিশের গুলিতেই মারা গিয়েছেন।
এই অশান্তির মাঝেই ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’-র বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় শুক্রবার জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। ৯ জুনের আগে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডা। পাকিস্তানে বসবাসকারী সেই দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তিত এই দেশগুলি। নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এই দেশগুলি।











