তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে কাটছে তাঁর জীবন। তবুও জন্মভূমির টান আজও একটুও কমেনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই আবেগঘন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ৩২ বছরের নির্বাসন জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা একটাই- আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।
তসলিমার কথায়, “আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই। জন্মভূমির প্রতি টান কখনও কমেনি।” তিনি জানান, নিজের দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের মানুষকে তিনি আজও ভীষণভাবে মিস করেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও জন্মভূমির স্মৃতি কখনও তাঁকে ছেড়ে যায়নি। (Taslima Nasrin)
১৯৯৪ সালে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নারী অধিকার নিয়ে লেখালেখির কারণে তাঁকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়। এরপর ইউরোপ, আমেরিকা এবং ভারতের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘ সময় বসবাস করেছেন তিনি। বর্তমানে ভারতে থাকলেও এখনও বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পাননি।তসলিমার দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে নিজের দেশ ছাড়তে হয়েছিল। নির্বাসনের এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মান পেলেও, জন্মভূমি থেকে দূরে থাকার কষ্ট কখনও কমেনি বলেই জানিয়েছেন।
বেগম রোকেয়ার সমাধিতে তসলিমা, মৌলবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
বাংলাদেশে তাঁর লেখা বই এখনও অনেক পাঠকের কাছে জনপ্রিয়। তবে দেশে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক এখনও থামেনি। অতীতেও একাধিকবার বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তসলিমা, কিন্তু সেই আশা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। (Taslima Nasrin)
লেখিকার মতে, একজন মানুষের জীবনে নিজের দেশ ও শিকড়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা, আবারও নিজের দেশে ফিরে স্বাধীনভাবে বসবাস করার সুযোগ পাওয়া। তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে তাঁর দীর্ঘ নির্বাসনের জীবন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।












