রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা নিয়ে এবার দেশগুলির উপর বড়সড় চাপ তৈরি করল আমেরিকা। সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই আইনের ফলে রাশিয়ার তেলের নিয়মিত ক্রেতা ভারত ও চিনের মতো দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প। তবে এখনই এই ১০০ শতাংশ শুল্ক বসছে না। আইনটি শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ট্রাম্প চাইলেই তার এই ক্ষমতার প্রদর্শন করতে পারেন।
Russia Sanctions Bill: কী রয়েছে নতুন আইনে?
‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ নামে এই আইনটি রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। রাশিয়ার সরকারি আধিকারিক, ব্যাঙ্ক, জ্বালানি ক্ষেত্র এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিতে সাহায্য করা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাঙ্কারগুলিও এই আইনের নিশানায় রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পণ্যের উপর আবার ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আইনটি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই ট্রাম্প তাতে সই করেন। এর আগে অগস্টে মার্কিন সেনেটেও বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয়েছিল।
ভারতের উপর কেন প্রভাব?
বহুদিন ধরেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনে ভারত। চিনও রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে নতুন আইনের আওতায় এই দুই দেশ বিশেষভাবে নজরে রয়েছে। তবে আইনে ভারতের নাম লিখে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প চাইলে তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে এই শুল্ক বসাতে পারেন। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ভারতের জন্য রয়েছে অনিশ্চয়তা। আমেরিকা শেষ পর্যন্ত ভারতের কোন কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক বসাবে বা আদৌ বসাবে কি না এবং কবে থেকে বসাবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই ভারতীয় রফতানির উপর এর প্রকৃত প্রভাবও এখনই হিসাব করা সম্ভব নয়।
তিরুপতির প্রসাদে ভেজাল ঘি, ED-র জালে মূল অভিযুক্ত
যদিও আমেরিকার আইন পাশ হওয়ার পরই ভারত জানিয়েছিল, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কারণে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি চালিয়ে যাবে নয়াদিল্লি।
আগের শুল্ক ছিলই, বাড়ল নতুন চাপ
তবে এই প্রথম নয়, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে এর আগেও ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। রুশ তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হয় এবং দুই দেশের বাণিজ্য কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। তবে এবার নতুন আইন ফের ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। (Russia Sanctions Bill)
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন আইনের ফলে ভারতের পণ্যের ওপর এখন সরাসরি ১০০ শতাংশ শুল্ক না বসলেও সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসন সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করে, তার উপরই নির্ভর করবে ভারতীয় রফতানি, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের পরবর্তী পরিস্থিতি।











