LIC-র ২,৬৮৪ কোটি টাকা নিয়ে জালিয়াতি। অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল CBI। লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বিনিয়োগ সংক্রান্ত ২,৬৮৪.৫৭ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। একই মামলায় রিলায়েন্স ক্যাপিটালের প্রাক্তন গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতীশ শেঠ সহ কয়েকজন সরকারি কর্মী ও অন্যান্যদের নাম রয়েছে (Anil Ambani)।
Anil Ambani: কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ
CBI সূত্রে খবর, LIC-র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই FIR দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ৯ মার্চের মধ্যে রিলায়েন্স ক্যাপিটালের ইস্যু করা ৫ টি নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারে মোট ৩,৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল LIC। ওই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ছিল সংস্থার সাধারণ কর্পোরেট প্রয়োজন মেটানো, তহবিলের প্রয়োজন পূরণ এবং পুরনো ঋণের পুনঃঅর্থায়ন (Anil Ambani)।
তবে LIC-র অভিযোগ, অভিযুক্তরা ষড়যন্ত্র করে ভুল তথ্যের মাধ্যমে তাদের ওই বিনিয়োগে রাজি করিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, বিনিয়োগ করা অর্থের একটি অংশ অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে LIC-র ২,৬৮৪.৫৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে CBI-কে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থাটি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা, অপরাধমূলক, বিশ্বাস ভঙ্গ, তহবিলের অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে CBI।
অভিযোগ অস্বীকার অনিল আম্বানির
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিল আম্বানির মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য, CBI-এর মামলাটি রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডকে কেন্দ্র করে। অনিল আম্বানি বর্তমানে ওই সংস্থার চেয়ারম্যান নন। ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। ২০২১ সালে নভেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার রিলায়েন্স ক্যাপিটালের পরিচালন পর্ষদ সরিয়ে দিয়ে, প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি।
অনিল আম্বানির মুখপাত্রের বক্তব্য, সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করা ঠিক নয় এবং তিনি কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। CBI জানিয়েছে, রিলায়েন্স গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থাকে ঘিরে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে। সংশিষ্ট কয়েকটি মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলছে।












