ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি-সহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকার বিচার বিভাগ। ভুয়ো পরিচযপত্র তৈরি, তথ্য গোপন এবং একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তাঁদের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এত সংখ্যক নাগরিকত্ব বাতিল হচ্ছে।
এই তালিকায় থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়সি নরিন্দর সিংহ। তাঁর বিরুদ্ধে ডেলাওয়্যার জেলার আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। অভিযোগ, ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি দুটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং বসবাস করতে থাকেন। পরে ২০০৮ সালের ১ মে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। (Citizenship Revocation)
বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার ভুল তথ্য দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন এবং এমন কিছু বেআইনি কাজ করেছেন। এই সমস্ত অপরাধের জন্য নরিন্দর সিংহের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জিয়া মুরাদ ভাট্টি এবং মোহাম্মদ ওয়াসিফের বিরুদ্ধেও ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অধিকার ও সম্মান। তাই এটি অবশ্যই আইন মেনে এবং সততার সঙ্গেই অর্জন করতে হবে। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, তাঁরা ভুয়ো নথি ব্যবহার, তথ্য গোপন বা অন্য বেআইনি উপায়ে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অনেকেই আবেদন করার সময় আইনের চোখে করা অপরাধ, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ, ভুয়ো পরিচয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও লুকিয়ে রেখেছিলেন।
শান্তির আবহেই ট্রাম্পের কড়া বার্তা ইরানকে, সামনে শুধু দুটি পথ
জানা গিয়েছে, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে দায়ের হওয়া এই ২৫টি মামলায় ভারত, পাকিস্তান, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, নাইজেরিয়া, জামাইকা, তাইওয়ান, জর্ডন, কিউবা, সুইডেন-সহ মোট ১৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। (Citizenship Revocation)
টড ব্লাঞ্চ আরও জানিয়েছেন, এই একটি মামলায় শেষ নয়, বরং এই অভিযান কেবল শুরু। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত মার্কিন বিচার বিভাগ মোট ১২৩টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে।
এই মামলাগুলিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, শিশুদের যৌন নির্যাতন, ভুয়ো বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা, পাসপোর্ট জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা করার মতো একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেটের কথায়, এটি মার্কিন ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের অভিযান। বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কড়া পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। (Citizenship Revocation)












