কুশল চক্রবর্তী
প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে এই হইচইটা আরম্ভ হয়েছিল। প্রশ্নটা ছিল, ভারতের আপামর জনগন কি পারবে এবার FIFA World Cup সরাসরি দেখতে? নানা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল নানা কথা। সব লেখাতেই প্রকাশ পেয়েছিল একটা অজানা আশঙ্কা। কিন্তু এখনও অবধি তার পরিবর্তনের কোনও খবর উঠে আসেনি। হ্যাঁ, ২০২২ সালে ৫০০ কোটির বেশী লোক কাতারে অনুষ্ঠিত যে ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা মাঠে বসে বা টেলিভিশনে এই খেলার বিভিন্ন ম্যাচ সরাসরি দেখেছিলেন তা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে দেখতে পারবে তো?
একটু শুরু থেকে ব্যাপারটা দেখা যাক। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে জুন মাসের ১১ তারিখ থেকে আমেরিকা, কানাডা আর মেক্সিকোতে। ভারতের মতো ১৪০ কোটি মানুষের দেশে এই প্রতিযোগিতা সরাসরি দেখানো না হলে যে বিশ্বকাপের স্পন্সররা খুব খুশী হবে এটা বলাটা বোধ হয় একবারেই ঠিক হবে না। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটা জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা দেখাতে ভারতের এত টালবাহানা কেন?
বিশ্বকাপে খেলবে ইরান? মুখ খুললেন FIFA প্রেসিডেন্ট
এখানেও সেই বাজারি অর্থনীতির লাভ লোকসানের হিসাব। টেলিভিশন কোম্পানিগুলোর প্রথম অসুবিধা হচ্ছে, ফুটবল বিশ্বকাপ এবার যে দেশগুলোতে খেলা হচ্ছে তার সঙ্গে ভারতের সময়ের পার্থক্য। সময়ের এই পার্থক্যের ফলে এই বিশ্বকাপের খেলাগুলো যখন সরাসরি দেখানো হবে, তখন হয় ভারতীয় আপামর জনতা ঘুমোবে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে যে যার কাজে যাওয়ার জন্য তৈরি হবেন। অর্থাৎ কি না খেলাগুলো হবে ভারতের মধ্যরাতে অথবা পরের দিন সকালের দিকে। সত্যি বলতে কী, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ ভারতীয় সময়ের প্রাইম টাইম বা সুবিধাজনক সময়ে দেখা যাবে। অতএব ভারতীয় যে সব কোম্পানি এখানকার খেলাগুলো টিভি সম্প্রচারের স্বত্ব দখল করে বসে আছে, তারা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ভারতের এই সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করার জন্য FIFA প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ডলার দাম ধার্য করেছিল, কেউ তা না নেওয়ায় এখন তার দাম নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ মিলিয়ান ডলারে।
ভারতীয় টাকায় যার মূল্য ৩০০ কোটি টাকার মতো। তবু ভারতের টিভি সম্প্রচারকারী সংস্থার মোঘল মুকেশ আম্বানির সংস্থা Viacom18, তা নিতে রাজি নয়। তারা আবার দর দিয়ে বসেছে ২৫ মিলিয়ান ডলার। তারা ঠারেঠারে বোঝাতে চাইছে ভারতবর্ষের লোকসংখ্যা ১৪০ কোটি হলেও ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা মাত্র ১০টি রাজ্যে। এই রাজ্যগুলো হলো পশ্চিমবঙ্গ, কেরালাম, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাডু, মুম্বই, মিজ়োরাম, মনিপুর, মেঘালয় আর সিকিম। এই রাজ্যগুলোর মিলিয়ে মিশিয়ে জনসংখ্যা ৪০ কোটির বেশী হবে না। এরপরও প্রশ্ন আছে, তাদের ভৌগলিক অবস্থান নিয়ে। পশ্চিমের সমুদ্র তীরবর্তী গোয়ার সঙ্গে উত্তর পূর্বের সিকিমের আবহাওয়া একেবারই ভিন্ন। এছাড়াও আছে ফুটবল খেলা স্পনসর করার আরেকটা ঝামেলা, তা হলো ক্রিকেট খেলার মাঝে যেমন সময় পাওয়া যায় বিজ্ঞাপন দেখানোর, সেটার সুযোগ বিশেষ নেই ফুটবলে। অতএব ভারতে এই বিশ্বকাপ প্রদর্শনের জন্য স্পনসর জোগাড় করাও কিছুটা হলেও কঠিন। এইসব ভেবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোও সময় নিচ্ছে যদি ফিফা আরও দর নামায় এই আশায়।
ইতিহাস গড়লেন R Vaishali, ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব মুকুটের লড়াইয়ে জু ওয়েনজুনের মুখোমুখি
অন্যদিকে দেখুন ২০১৮ সাল থেকে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ ধীরে ধীরে প্রায় সব ভারতের টিভি সম্প্রচারকারী সংস্থাকে নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। এমনকী ২০২৩-২৪ সালে স্টার আর সোনির মতো সংস্থার সম্প্রচার আধিকারগুলো কিনে নিতে থাকে। এর ফলে ভারতে কোনও খেলাধুলা টিভিতে সম্প্রচার করতে গেলে রিলায়েন্স গোষ্ঠীই হয়ে ওঠে একছত্র অধিপতি। এই যে রিলায়েন্সে গোষ্ঠী জিওস্টার নাম দিয়ে আধিপত্য, তার পিছনে যে দেশের উচ্চতম পর্যায়ের হাত আছে তা আশা করি বলে বোঝাতে হবে না। কিন্তু তার জন্য ভুগতে হচ্ছে আপামর ভারতবাসীকে। আজ যদি ফক্স স্পোর্টস, অতীতের স্টার স্পোর্টস বা স্কাই নেটওয়ার্কের মত আরও বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী টিভি সম্প্রচারকারী কোম্পানি দেশে থাকত, তাহলে হয়তো রিলায়েন্স গোষ্ঠীর এত ছড়ি ঘোড়ানোর মতো জায়গা থাকত না। অন্যদিকে সরকার বাহাদুর যদি একটু সদয় হন, তাহলে তো অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে অন্য অনেক বারের মত এইবারের ফুটবল বিশ্বকাপের আস্বাদ ঘরে বসেই নেওয়ার।













1 thought on “FIFA-র দরে অনীহা রিলায়েন্সের, FIFA World Cup দেখা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় ভারতবাসী”