ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র চোটের (Neymar Injury) কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলত্তির মন্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতেও হয়তো দেখা নাও যেতে পারে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভ্রোমরা এবং সমর্থকদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের আগে তাঁর অনুপস্থিতি ব্রাজিল শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার নিউ জার্সিতে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ব্রাজিল। ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে কোচ আন্সেলত্তি জানান, কাফ মাসলের চোট থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি নেইমার। (Neymar Injury) তিনি দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
(Neymar Injury) ৩৪ বছর বয়সি এই সান্তোস স্ট্রাইকার শুক্রবারও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। এর আগে পানামা ও মিশরের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাঁকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট।
🚨🇧🇷 BREAKING: Neymar Jr to miss Brazil vs Morocco opening game but back next week.
— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) June 12, 2026
“Neymar is working very hard to recover as quickly as possible. The expectation is that he will recover and rejoin the group next week”. pic.twitter.com/8aFLuHyo11
তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি নেইমার খেলতেই না পারেন, তাহলে তাঁকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হলো কেন? এর উত্তরে আন্সেলত্তি বলেন, দলের তরুণ ফুটবলারদের কাছে নেইমার একটি অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(Neymar Injury) নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের খেলায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন বড় আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম সৃজনশীল ফুটবলার তিনি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষমতাও অসাধারণ। তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলকে অনেক বেশি নির্ভর করতে হবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং অন্যান্য আক্রমণাত্মক ফুটবলারের উপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মরক্কোর মতো সংগঠিত ও দ্রুতগতির দলের বিরুদ্ধে নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ব্রাজিলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারত। তাঁর না থাকা মানে ব্রাজিলের আক্রমণে সৃজনশীলতার কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে ব্রাজিল দলে প্রতিভার অভাব নেই। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, নেইমার তাঁর কাছে অনুপ্রেরণা। তিনি আশা করছেন, যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন এই তারকা ফুটবলার। ভিনিসিয়াস বলেন, “নেইমার আমাকে অনুপ্রাণিত করেন। আমি চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরুন।”
অন্যদিকে মরক্কো শিবির অবশ্য নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশেষ ভাবিত নয়। দলের কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি জানিয়েছেন, তাঁরা নেইমার থাকুক বা না থাকুক—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছেন। মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি অবশ্য হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বের সেরাদের বিরুদ্ধে খেলতে তিনি সবসময়ই পছন্দ করেন এবং নেইমার সেই তালিকার অন্যতম।
এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই কতটা সফল হয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নেইমারের চোট (Neymar Injury) ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সমর্থকরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন কবে আবার সবুজ-হলুদ জার্সিতে মাঠে নামবেন তাঁদের প্রিয় তারকা।
বিশ্বকাপে চুরি! মায়ামি থেকে উধাও ইংল্যান্ড প্লেয়ারদের বুট, বল











