সময় এগিয়েছে, এখন তিথি নক্ষত্রের অবস্থান, সময় সব গুগলই বলে দেয়। তবে এই যুগেও রমরমিয়ে বিকোয় ‘বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা’। বাঙালির ঘরে নববর্ষের শুরুতে বাংলা ক্যালেন্ডার থাকুক বা না থাকুক, চৈত্র সংক্রান্তির আগেই ‘বেণীমাধব শীল’-এর পঞ্জিকা কিনে আনা যেন একরকমের রেওয়াজ। দেড়শো বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘরোয়া পুজো-পার্বণ থেকে বিয়ের লগ্ন সবকিছুরই একমাত্র ভরসা এই গোলাপি মলাটের বইটি। তবে অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, এই পঞ্জিকার মলাটের ওপর এক ব্যক্তির ছবিটি থাকে, তিনিই কি আসলে বেণীমাধব? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই পঞ্জিকার পিছনের ইতিহাস। (Benimadhab Sil)
সম্প্রতি ‘টাইম অ্যান্ড টাইড’ পডকাস্টে উঠে এসেছে এই পঞ্জিকার নেপথ্যের গল্প। জানা গিয়েছে, পঞ্জিকার মলাটে থাকা ছবিটি স্বয়ং পণ্ডিত বেণীমাধব শীলেরই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পঞ্জিকার সূচনা কিন্তু তাঁর হাত ধরে নয়, বরং তাঁর বাবা পূর্ণচন্দ্র শীল এবং ছেলে দ্বারকানাথ শীলের উদ্যোগেই এর শুরু। অর্থাৎ, এই পঞ্জিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে টানা তিন পুরুষের ইতিহাস।
Laxmi Blessing Tips: সন্ধ্যায় ভুলেও করবেন না এই কাজ! লক্ষ্মী বাড়ির দরজা থেকে ফিরে যাবেন
গল্পের শুরুটা দ্বারকানাথ শীলকে দিয়েই। কাজের খোঁজে তিনি কলকাতায় আসেন এবং প্রথমেই ট্যাঁকশালে চাকরি পান। নিয়মিত মাইনের চাকরি থেকে ধীরে ধীরে টাকা জমাতেও শুরু করেন তিনি। নাতির এই চাকরির খবর পেয়ে দাদু পূর্ণচন্দ্রও কলকাতায় চলে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে ট্যাঁকশালে কাজ করতে শুরু করেন।
কয়েক মাস কাজ করার পর দাদু-নাতি দু’জনেই ভাবেন, অন্য কিছু করা যাক। তাতে হয়তো আরও ভালো আয় করা যাবে। সেই সময় পণ্ডিত বেণীমাধব শীল জ্যোতিষশাস্ত্র ও গণনায় দারুণ দক্ষ ছিলেন। তাঁর সেই প্রতিভাকেই কাজে লাগিয়ে পূর্ণচন্দ্র ও দ্বারকানাথ মিলে শুরু করেন পঞ্জিকা প্রকাশের কাজ। (Benimadhab Sil)
পূর্ণচন্দ্রের ইচ্ছাতেই পঞ্জিকার মলাটে রাখা হয় তাঁর ছেলে বেণীমাধবের ছবি। এতে দ্বারকানাথেরও কোনও আপত্তি ছিল না। মাত্র ২১ বছর বয়সে তোলা বেণীমাধব শীলের সেই ছবিটিই আজও পঞ্জিকার প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়, যা এখনও একইভাবে শোভা পাচ্ছে বাঙালির ঘরে ঘরে।













1 thought on “Benimadhab Sil: বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকার প্রচ্ছদের ছবির মানুষটি কে? জানেন এই পঞ্জিকার ইতিহাস?”