কাছের মানুষকে হারালেন ‘সাইয়ারা’ খ্যাত অভিনেত্রী অনীত পড্ডা। রিল আর রিয়েল লাইফের এক আশ্চর্য মিল। গত বছর এই সিনেমা দিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিলেন অনীত পড্ডা ও আহান পাণ্ডে। সেখানে ‘বাণী’ অর্থাৎ অনীতের চরিত্র অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত ছিল। এবার সেই একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো অনীতের দাদুরও। প্রিয়জনকে হারিয়ে আবেগঘন পোস্ট অনীতের।
দীর্ঘদিন ধরে আলঝঝাইমার্স রোগে ভুগছিলেন অনীতের দাদু। সেই লড়াইয়ে আর জিতে ফেরা হলো না। নিঃশব্দে চলে গেলেন। সম্প্রতি অনীত তাঁর সমাজ মাধ্যমে করা পোস্টে দাদুর প্রয়াণের খবর দিতে গিয়ে তাঁকে নিজের জীবনের “একমাত্র ভালোবাসা” বলে উল্লেখ করেছেন। (Aneet Padda’s Emotional Post)
দাদুর মৃত্যুর পর অনীত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সাদাকালো ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে দাদুর হাত আঁকড়ে ধরে আছেন অভিনেত্রী। এই ছবির সঙ্গে তিনি একটি আবেগঘন বার্তাও লিখেছেন, যা পড়লে বোঝা যায়, তাঁর জীবনে দাদুর জায়গাটা ঠিক কোথায় ছিল। তিনি লিখেছেন, “তুমি ধীরে ধীরে সব ভুলে যাচ্ছিলে, কিন্তু ‘মাখন’ নামটা কখনও ভোলোনি। স্মৃতিগুলো হয়তো হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ভালোবাসাটা তুমি আগলে রেখেছিলে। আমি এই দুই জিনিসই নিজের সঙ্গে বয়ে নিয়ে চলব।” তিনি আরও লেখেন, “আমাদের একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি মনে রাখব। তোমার মজার জোক, তোমার উদারতা, তোমার আলো- সবকিছুই আমি আমার জীবনে সঙ্গে রাখব। তুমি আমাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ শিখিয়েছ।”
উল্লেখ্য, এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে অনীত তাঁর দাদুর অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, আলঝাইমার্সের কারণে তাঁর দাদু অনেক সময় তাঁর নাম পর্যন্ত মনে রাখতে পারতেন না। তবুও, সাইয়ারা ছবির কিছু দৃশ্য দেখে তিনি অনীতকে চিনতে পারেন, এটা অভিনেত্রীর কাছে ছিল একটি অমূল্য উপহার। তাই এই ছবির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন কোথাও না কোথাও জড়িয়ে ছিল। কারণ, ‘সাইয়ারা’-তে তাঁর চরিত্রও তো একই রোগে ভুগছিল। অনীত জানিয়েছিলেন, “আমার দাদুর অসুখের কারণে এই গল্পটা আমার কাছে আরও বেশি বাস্তব মনে হয়েছিল। কারণ আমি বিশ্বাস করি- মন ভুলে যেতে পারে, কিন্তু হৃদয় কখনও ভোলে না।” (Aneet Padda’s Emotional Post)












