রাজনীতির ময়দানে দলবদল নতুন কিছু নয়, কিন্তু ডিজিটাল যুগে তার প্রভাব যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন রাঘব চাড্ডা (Raghab Chadda)। আপ (AAP) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজের জনপ্রিয়তায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন এই রাজ্যসভা সাংসদ। তথ্য বলছে, মাত্র এক দিনেই ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) ফলোয়ার হারিয়েছেন তিনি।
দলবদলের আগেই সোশাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন রাঘব। গিগ কর্মীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ কেলেঙ্কারি নিয়েও সরব হয়েছেন। বিমানবন্দরে খাবারের অতিরিক্ত দামের প্রতিবাদ করেছেন। ডেলিভারি বয় হিসাবেও একদিন কাজ করেছেন যেন ১০ মিনিটে ডেলিভারির বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যায়। রাঘবের দাবি মেনে পদক্ষেপও করেছে কেন্দ্র।
সামাজিক ইস্যুতে সুর চড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রাঘব। জেন জি মনে করেছিল, এই তরুণ নেতা অন্যদের থেকে আলাদা। দৈনন্দিন সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি। যখন জল্পনা ছড়াচ্ছে রাঘব আপ ছাড়তে চলেছেন, তখনও তরুণ প্রজন্মের সমর্থন ছিল তাঁর সঙ্গে। এক সমর্থক দাবি করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম চায় রাঘব চাড্ডা নিজের একটি রাজনৈতিক দল গড়ুন। এখন অন্য কোনও দলে যোগ দিলে জনপ্রিয়তা হারাবেন রাঘব। এমনকি সমালোচনার মুখেও পড়তে পারেন। ‘জেন জি পার্টি’ নামে দল খুলুন রাঘব, দাবি করেছিলেন নেটিজেনরা।
তবে শুধু ফলোয়ার হারানোই নয়, রাঘবের (Raghab Chadda) বিরুদ্ধে আরও একটি বড় অভিযোগ তুলছেন নেটিজেনরা। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তিনি তাঁর প্রোফাইল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি বিরোধী সমস্ত পুরনো পোস্ট মুছে ফেলেছেন। আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেছেন, রাঘবের টাইমলাইনে এখন মোদী সংক্রান্ত মাত্র দুটি পোস্ট রয়েছে এবং দুটিই প্রশংসাসূচক।
এক সময় যাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জেন-জি পার্টি’ খোলার দাবি উঠত, আজ সেই অনুরাগী মহলেই তিনি সমালোচনার মুখে। তথ্য ও পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি করা রাঘব চাড্ডা কি পারবেন এই ডিজিটাল ধাক্কা সামলে যুবসমাজে নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে?











