আম আদমি পার্টির (AAP) ভিত নড়িয়ে দেওয়া সাংসদের বিদ্রোহ নিয়ে মুখ খুললেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে(Anna Hazare) । রাঘব চাড্ডা-সহ সাতজন রাজ্যসভা সাংসদের দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দল যদি “সঠিক পথে” চলত, তাহলে এত বড় ভাঙন কখনও হত না।
মহারাষ্ট্রের অহল্যানগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আন্না হাজারে (Anna Hazare) বলেন, “গণতন্ত্রে প্রত্যেকের নিজের মতামত রাখার অধিকার আছে। ওরা নিশ্চয়ই কোনও সমস্যার মুখে পড়েছিল, তাই দল ছেড়েছে। দল যদি সঠিক পথে চলত, তাহলে কেউ দল ছাড়ত না।” তাঁর এই মন্তব্য কার্যত অরবিন্দ কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন AAP-এর বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
West Bengal Election: প্রথম দফার ভোট শেষে EVM পাহারায় চ্যালেঞ্জ , একাধিক জেলায় স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা: Anna Hazare: ‘সঠিক পথে চললে কেউ দল ছাড়ত না’ – কেজরিওয়ালকে তীব্র খোঁচা আন্না হাজারেরপ্রসঙ্গত, শুক্রবার দিল্লিতে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘব চাড্ডা ও সন্দীপ পাঠক ঘোষণা করেন যে তাঁরা AAP ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন আরও পাঁচ রাজ্যসভা সাংসদ — অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্ত ও বিক্রম সাহনি। রাঘবের দাবি, AAP-এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যসভা সাংসদ আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করবে।
দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা বলেন, “যে AAP-কে আমি ১৫ বছর সময়, পরিশ্রম ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়েছি, সেই দল এখন তার মূল আদর্শ ও নৈতিকতা থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে।” এই আবহে আন্না হাজারের প্রতিক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আম আদমি পার্টির জন্মের পিছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনিই। ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল দেশজোড়া দুর্নীতিবিরোধী ‘জন লোকপাল’ আন্দোলন। দিল্লির রামলীলা ময়দানে আন্না হাজারের অনশন ঘিরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া, প্রশান্ত ভূষণদের মতো নেতারা।(Anna Hazare)
পরবর্তীতে আন্দোলন থেকেই রাজনৈতিক বিকল্প গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেজরিওয়াল শিবির। ২০১২ সালে তৈরি হয় আম আদমি পার্টি। সাধারণ মানুষের দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে দলের প্রতীক করা হয় ঝাড়ু। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক “আবর্জনা” পরিষ্কার করার বার্তাই ছিল ওই প্রতীকের মূল ভাবনা। যদিও আন্না হাজারে শুরু থেকেই সরাসরি রাজনৈতিক দল গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর মত ছিল, আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিলে মূল আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই মতভেদের জেরেই পরে তিনি AAP থেকে দূরত্ব তৈরি করেন।
তাই আজ AAP-এর বড়সড় ভাঙনের মাঝে আন্না হাজারের এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তিনি দলের আদর্শগত সংকটের দিককে ইঙ্গিত করেছেন।










