বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল (West Bengal Election 2026) কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি থেকে শুরু করে গুলি চলা, সব মিলিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আর এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপাল রাউত। এ ছাড়াও ধৃতদের তালিকায় আছেন কৌশিক দাস, সিকান্দর প্রসাদ, শ্যামদেব সাউ। এ দিকে গোপাল রাউতকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার ভাটপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন বিজেপি নেতা ও নোয়াপাড়ার BJP প্রার্থী অর্জুন সিং এবং তাঁর ছেলে ও ভাটপাড়ার প্রার্থী পবন সিং(West Bengal Election 2026)। অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় জগদ্দলের আটচালা বাগান এলাকায় তৃণমূল কর্মী বিট্টু মাহাতো দলীয় পতাকা ও ব্যানার লাগাচ্ছিলেন। সেই সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। আহত অবস্থায় রাতে জগদ্দল থানায় অভিযোগ জানাতে যান ওই কর্মী। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা সৌরভ সিং, গোপাল রাউত, দেবজ্যোতি ঘোষ-সহ আরও অনেকে।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, শনিবার রাত দশটা নাগাদ জগদ্দল থানায় গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে হওয়া একটি মামলার আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। রাজেশ যখন থানার ভেতরে নিজের কাজ সারছিলেন, ঠিক তখনই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ পাণ্ডে ও সৌরভ সিংয়ের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি দল সেখানে হাজির হয়। অভিযোগ, রাজেশ কুমারের উপস্থিতিতেই থানায় উত্তেজনা তৈরি করেন তৃণমূল কর্মীরা।
রবিবার মাঝরাতে জগদ্দল থানা চত্বরে তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে ব্যাপক বোমাবাজি ও পাথর বৃষ্টি হয়, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ – এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পলাতক অভিযুক্তদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে হবে।









