মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড (Chandranath Rath Murder Case) ঘিরে রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যেখানে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি CID-র শীর্ষ আধিকারিকরাও রয়েছেন। তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে ফরেনসিক দল, STF এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (IB) বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। যশোর রোড সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।
(Chandranath Rath Murder Case) পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, চারটি মোটরবাইক ও একটি স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা প্রথমে রাস্তা ব্লক করে গাড়িটিকে থামায়, এরপর খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি চালানো হয়। প্রায় ১০ রাউন্ড গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন বায়ুসেনা জওয়ান ও শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই হত্যাকাণ্ড (Chandranath Rath Murder Case) একেবারে সুপরিকল্পিত। অন্তত এক সপ্তাহ ধরে রেইকি চালানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চন্দ্রনাথের দৈনন্দিন চলাফেরা, রুট, এমনকি গাড়ির ভিতরে বসার অবস্থান পর্যন্ত নজরদারি করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। হামলাকারীরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অপারেশন পরিচালনা করেছে বলেও ধারণা।
ঘটনার পরপরই CID আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেন। ফরেনসিক টিম চন্দ্রনাথের গাড়ি থেকে রক্তের নমুনা ও গুলির খোল উদ্ধার করেছে। গুলিবিদ্ধ গাড়ির সামনের আসন দু’টিতে রক্তের দাগ স্পষ্টভাবে পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত স্করপিও গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে যার নম্বরপ্লেট ভুয়ো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এমনকি গাড়ির চেসিস নম্বরও মুছে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি। (Chandranath Rath Murder Case)
রাজ্য পুলিশের ডিজি নিজে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। মধ্যমগ্রাম, যশোর রোড ও আশপাশের এলাকার একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের গতিবিধি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, হামলার পর দুষ্কৃতীরা রাজারহাটের দিকে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারীদের একটি অংশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে ভিনরাজ্যের শার্প শুটারের ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে ফরেনসিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে। মোট আট জনের বেশি দুষ্কৃতী এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও অনুমান।
(Chandranath Rath Murder Case) ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। তিন সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল টিম এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
পুরো ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তদন্ত একাধিক দিক থেকে এগোচ্ছে—রেইকি, সুপারি কিলিং, ভিনরাজ্য যোগ এবং রাজনৈতিক শত্রুতা—সব দিকই খতিয়ে দেখছে SIT।
টিভিকে-র শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত, হতাশ বিজয়ের ভক্তরা: Chandranath Rath Murder Case: রেইকি করে খুন, শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনে SIT গঠন








