নতুন সরকার গঠনের আগেই রাজ্যে হিংসা। খুন হলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Suvendu Adhikari PA)। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ, ঘটনায় আহত তাঁর গাড়ির চালক। যশোর রোড সংলগ্ন দোহারিয়া এলাকায় চলন্ত গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় দোহারিয়া এলাকায় একটি বাইকে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির পথ আটকায়। অভিযোগ, এরপর গাড়ির বাদিকের কাচ লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং চালক বুদ্ধদেব বেরা ও পাশের সিটে বসে থাকা চন্দ্রনাথ রথ গুরুতর জখম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, বাইকে থাকা প্রত্যেকেই হেলমেট পরেছিলেন এবং বাইকে নম্বর প্লেট ছিল না। বিজেপির অভিযোগ, চন্দ্রনাথের বুকে পরপর তিনটি গুলি লাগে। অন্য একটি সূত্রে দাবি, মাথা, বুক ও পেটে গুলি লাগে তাঁর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। গাড়িতে থাকা আরও এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়, পরে তাঁকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, বাইকটি চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি ফলো করছিল। সুযোগ বুঝে গুলি চালানো হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন CRPF থেকে BSF-এর পদস্থ কর্তারা। গুলিবিদ্ধ স্করপিও গাড়িটিকেও ঘিরে রেখেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির কৌস্তভ বাগচী, পীযূষ কানোরিয়া, শঙ্কর ঘোষ ও শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়-সহ বিজেপির বহু নেতা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের মদত থাকতে পারে। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লেখে, ‘আমরা চন্দ্রনাথ রথ ও BJP আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা নির্বাচনের পরে নিহত তিন তৃণমূলকর্মীর নির্মম হত্যার নিন্দা করি। আমরা এই ঘটনায় কড়া শাস্তির দাবি করছি। আদালতের নজরদারিতে CBI তদন্ত চাইছি যাদের দোষীরা দ্রুত শাস্তি পায় এবং বিচার দ্রুত হয়। গণতন্ত্রে হিংসা এবং রাজনৈতিকর খুনের কোনও জায়গায় নেই।’
কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, কী কারণেই বা নিশানা করা হল শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।










