ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পুলিশ বনাম বিজেপি সংঘাত নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে। বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে পুলিশের চড় মারার অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মামুদপুর এলাকায়।বিজেপির দাবি, মঙ্গলবার রাতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে মামুদপুরে পৌঁছন বিশ্বজিৎ পাল। সেই সময়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঠিক তখনই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। বিজেপির অভিযোগ, কোনও স্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই বিশ্বজিৎ পালকে লক্ষ্য করে পুলিশ আচমকা কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। (Baruipur BJP Candidate Allegation)
বিশ্বজিতের অভিযোগ, “কোনওরকম উস্কানি ছাড়াই আমাকে চড় মারা হয়। টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়। সেই সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে আমার চশমা ভেঙে যায়।” তাঁর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই কারণেই পুলিশ সেখানে যায়। তবে চড় মারার অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেনি পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানান, “আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কী পরিস্থিতিতে কী ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” (Baruipur BJP Candidate Allegation)
ঘটনার পর বিশ্বজিৎ পালকে বারুইপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও পরে রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার তিনি লিখিতভাবে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের কাছে অভিযোগ জানান এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “গতকালের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ নিজে থেকেই একটি মামলা করেছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই থানায় এসে তদন্তকারী অফিসারের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আবার ৪ সেপ্টেম্বর আমাকে ডাকা হয়েছে। সেদিন বিধানসভায় কাজ থাকলেও আমি সহযোগিতা করব।” (Baruipur BJP Candidate Allegation)
এর পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক বার্তাও দেন। তাঁর কথায়, “আমাদের লড়াই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ভয় দেখিয়ে, জেল-জুলুম করে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা মানুষের পাশে আছি এবং আইনের পথেই লড়াই চালিয়ে যাব। (Baruipur BJP Candidate Allegation)
এদিকে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকার বদলাতেই পাল্টি খেলেন কবীর সুমন, বললেন, “আমি তৃণমূলপন্থী নই”









