ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাতেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে গায়ক রাজনীতিবিদ কবীর সুমন। একসময় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সুমন এবার সাফ জানালেন, “আমি তৃণমূলপন্থী নই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। (Kabir Suman)
বাংলায় দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবারের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি । এই পালাবদলের আবহেই সামনে এসেছে সুমনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। শিল্পীর দাবি, তিনি কখনও তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। তাঁর কথায়, “আমায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অনুরোধ করে প্রার্থী করেছিলেন। তার আগে আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতেই আমি সরে যাই।” (Kabir Suman)
সুমনের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এ কি ‘পালাবদলের রাজনীতি’? দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গ রাজনীতিতে সুমন ও তৃণমূলকে একসূত্রে দেখা হতো। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর তাঁর এই অবস্থান বদলকে অনেকেই ‘ডিগবাজি’ বলেই কটাক্ষ করছেন।
শুধু নিজের অবস্থান নয়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও মুখ খুলেছেন সুমন। তাঁর বক্তব্য, এবারের ভোটপ্রক্রিয়া তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, “হঠাৎ করে যে ভাবে সামরিক বাহিনী নামানো হল, তা আগে দেখিনি। ট্যাঙ্ক পর্যন্ত ঢুকবে, ভাবিনি।” যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেন জনতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিল, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তাঁর কাছে নেই। তবে তাঁর মতে, শাসকদলের কিছু ভুল সিদ্ধান্তই জনমতের বিরূপতার কারণ হতে পারে। (Kabir Suman)
একের পর এক পদত্যাগ, রাজ্যে পরিবর্তন আসতেই প্রস্থান শুরু অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের
এদিকে, সুমনের এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক অন্দরমহল—সব জায়গাতেই চলছে তীব্র আলোচনা। কেউ তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ বলে মনে করছেন, আবার কেউ এটিকে সময় বুঝে অবস্থান বদল বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
যদিও এই ঘটনায় কোনও আইনি পদক্ষেপ বা প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসেনি, তবু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার পালাবদলের আবহে এই ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এখন দেখার, সুমনের এই অবস্থান বদল রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।









