পরিবর্তন চেয়েছিলেন মানুষ, তাই-ই হয়েছে (Bengal Election Result)। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শাসকের পদে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে একপেশে হারিয়ে বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে BJP (Bharatiya Janata Party)। ২০৭ আসন নিয়ে বাংলায় এখন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠন করল BJP। তবে BJP ক্ষমতায় আসার আগে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একাধিক প্রকল্প চালু করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানোর কথা রয়েছে ভাতাও। কোন কোন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের (Government Scheme) সুবিধা মিলবে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গের মানুষের মনে। দেখা নেওয়া যাক কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় এক নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারের মাথার উপর ছাদ গড়ে দেবে এই সরকার। এখনও পর্যন্ত তার আওতায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার বেশিরভাগ কাজই হয়ে গিয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার এই সুবিধা পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী।
যুবশক্তি ভরসা: এই প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে BJP। এই প্রকল্প পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আছে। সেই শর্ত মানলেই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন রাজ্যবাসী। রাজ্যে বিদায়ী তৃণমূল সরকার এপ্রিল মাসেই ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছে। এতে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা কর্মহীনরা মাসে ১৫০০ টাকা করে হাতে পান।
মাতৃশক্তি ভরসা: তৃণমূল সরকার গত পাঁচ বছরে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নামে যে প্রকল্প চালায়, তাতে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলা মাসে ১৫০০ টাকা করে হাতে পান। তবে এবার নির্দিষ্ট আয়যুক্ত পরিবারের মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন। এমনটাই ঘোষণা করেছিল BJP। এরাজ্যে মাতৃশক্তি ভরসা যোজনা চালু হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
আয়ুষ্মান ভারত: কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা আয়ুষ্মান ভারত (Bengal Election Result)। এই প্রকল্পের অধীনে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা সুরক্ষা পাবেন। সোমবার বঙ্গবিজয়ের পর দিল্লিতে BJP-র সদর দপ্তরে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, “বাংলায় মহিলারা এখন একটি নিরাপদ পরিবেশ পাবেন এবং যুবকরা কর্মসংস্থান পাবেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, রাজ্যে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে সমতুল্য প্রকল্প ছিল স্বাস্থ্যসাথী। বাংলার প্রতি পরিবারের মহিলা সদস্যের নামে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী স্কুল: এর আওতায় রাজ্যের প্রত্যেক কন্যার শিক্ষা নিখরচায় পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি এবং পরবর্তীতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা মেলে বিনামূল্যে। এছাড়া এককালীন ২৫ হাজার টাকাও পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাংলার সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী।
জল জীবন মিশন: ট্যাপকলের মাধ্যমে প্রতি ঘরে ঘরে জলের সংযোগ হয় এই প্রকল্পের আওতায়। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং নথিপত্র তৈরিতে দেরি হওয়ায় রাজ্য ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রের বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার ৫৩ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকারে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন রাজ্যবাসী। এতদিন ঘরে ঘরে নলবাহিত জল সরবরাহ হতো রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অধীনে। প্রতি ঘরে তা পৌঁছে দেওয়া ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।










