উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার একটি হাসপাতাল চত্বরে মঙ্গলবার দেখা গেল এক অন্যরকম ছবি। যেখানে এখনও বহু ক্ষেত্রে কন্যাসন্তান জন্মকে ঘিরে নানা সামাজিক কুসংস্কার ও মানসিকতার অস্তিত্ব রয়েছে, সেখানে এক পরিবারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কার্যত নজর কেড়েছে সকলের। সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে বরণ করে বাড়ি নিয়ে যেতে হাসপাতালের সামনে আয়োজন করা হয়েছিল ছোটখাট উৎসবের। এক হাজার রসগোল্লা, শতাধিক জলের বোতল, ব্যান্ড-পার্টি, তাশা এবং ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ি—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল হাসপাতাল চত্বরে। (Habra General State Hospital)
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জনি মাহাতো ও লিপিকা মাহাতোর ঘরে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। সেই সুখবর পাওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। (Habra General State Hospital) হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ প্রথমে এত আয়োজন দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই দেখা যায়, কোলে ফুটফুটে নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসছেন লিপিকা। তাঁর পাশে স্বামী জনি মাহাতো এবং অন্যান্য আত্মীয়রা। আর তাঁদের জন্যই অপেক্ষা করছিল বিশেষভাবে সাজানো গাড়ি ও বাজনার দল। (Habra General State Hospital)
সবচেয়ে বড় চমক ছিল সদ্য মা হওয়া লিপিকার জন্য। হাসপাতালের বাইরে যে এমন বিশাল আয়োজন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। বাইরে বেরিয়ে সমস্ত আয়োজন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। লিপিকার কথায়, মেয়ে হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরিবারের সবাই খুশি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু শ্বশুরমশাই যে এত বড় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন, তা তিনি ভাবতেই পারেননি। তিনি জানান, তাঁর শ্বশুরের উদ্যোগেই এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে। (Habra General State Hospital)
অন্যদিকে বাবা জনি মাহাতো জানান, প্রথম থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিল একটি কন্যাসন্তান। তাই মেয়ের জন্ম তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। তাঁর কথায়, বর্তমান সময়ে মেয়েরা শিক্ষা, চাকরি, প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। (Habra General State Hospital) দেশের রাষ্ট্রপতির পদেও একজন মহিলা রয়েছেন। তাই কন্যাসন্তান জন্মকে গর্বের বিষয় হিসেবেই দেখেন তিনি। সেই আনন্দ ভাগ করে নিতেই হাসপাতালের রোগীর পরিজন, সাধারণ মানুষ ও উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি ও জল বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে নিজের ‘ঘরের রাজরানি’কে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। (Habra General State Hospital)
এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা নবজাতিকার দাদু শ্যামল মাহাতো। তাঁর বক্তব্য, এখনও সমাজের বহু জায়গায় কন্যাসন্তান জন্মকে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। কোথাও কোথাও মেয়ে জন্মানোর জন্য মাকেও নানা অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন। তাই তিনি চেয়েছেন তাঁর নাতনিকে এমনভাবে বরণ করতে, যাতে সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছায়। তাঁর মতে, ছেলে-মেয়ে সমান, বরং আজকের দিনে মেয়েরা বহু ক্ষেত্রেই নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই কন্যাসন্তানকে অবহেলা নয়, সম্মান ও ভালোবাসা দেওয়া উচিত।শ্যামলবাবুর কথায়, “আমাদের বাড়িতে মা লক্ষ্মী এসেছে। তাই তাঁকে বরণ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। মিষ্টি এনেছি, জল এনেছি, সবাইকে খাওয়াব। (Habra General State Hospital) আমার সাধ্যের মধ্যে যা সম্ভব, সবটাই করব।” তাঁর এই বক্তব্য এবং পরিবারের আনন্দঘন আয়োজন হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত বহু মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। অনেকেই বলেন, সমাজে যখন কন্যাসন্তানকে ঘিরে নেতিবাচক ঘটনার খবর সামনে আসে, তখন হাবড়ার এই পরিবারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বহন করে। কন্যাসন্তানকে ঘিরে এমন উচ্ছ্বাস ও সম্মান সত্যিই এক ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করল হাবড়ার মাহাতো পরিবার। (Habra General State Hospital)
হাবড়ার মাহাতো পরিবারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরেছে। কন্যাসন্তানকে সমান মর্যাদা ও ভালোবাসা দেওয়ার যে বার্তা তাঁরা দিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। ছেলে-মেয়ের ভেদাভেদ ভুলে সমতার সমাজ গড়ার ডাকই যেন উঠে এসেছে এই অভিনব উদযাপনের মাধ্যমে। (Habra General State Hospital)
আরও পড়ুন :-‘তিলোত্তমা’ নয়, ‘হীরক রানীর দেশে’-র হাত ধরে বাংলা ছবিতে ফিরছেন জয়া প্রদা









