মাস কয়েক আগেও নরম-গরম কথা শোনা যেত তাঁর গলায়। যাঁর ভয়ে রীতিমতো আড়ষ্ট হয়ে থাকে হতো বলে দাবি এলাকার মানুষের। হুমকি, তোলাবাজি ,ভয় দেখানো,খুনের চেষ্টার অভিযোগ ছিল যাঁর বিরুদ্ধে, সেই দাপুটে নেতা এখন জেলবন্দি। উধাও দাপট। গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে টি শার্ট-হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিস (Jahangir Khan)। স্থানীয়দের সামনে দিয়ে তাঁকে হাঁটিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় তদন্তের স্বার্থে।
ভোটের আগে বলেছিলেন, ‘ঝুঁকেগা নেহি’। রাজ্যে পালাবদল হতেই নরম সুর শোনা গিয়েছিল পুষ্পার গলায়। পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটে লড়ছেন না বলে জানান। ওই ভোটে ফলতায় শোচনীয় ভাবে হেরেছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তারপরই হঠাৎ এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে যান দাপুটে তৃণমূল নেতা। তারপরেই ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কির কাছ থেকে এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হন জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)।
সূত্রের খবর, তোলাবাজি মামলায় পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফলতা থানার পুলিশ তদন্তের স্বার্থে জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় স্থানীয় মোড়ে গিয়ে তাঁকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। সেখান থেকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় হাঁটিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচলতি মানুষ সেই দৃশ্য দেখে প্রথমে বেশ কিছুটা হতচকিত হয়ে যান। স্বচক্ষে তা দেখে প্রথমে দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতাকে চিনতেই পারেননি তাঁরা। পরে হুঁশ ফিরতেই বাসিন্দারা অবাক হয়ে যান। সেই দৃশ্য দেখতে কার্যত ভিড় জমে যায় এলাকায়। দাপুটে নেতার এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।
সূত্রের খবর, তদন্তের কারণে এদিন বাড়ির পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন মামলার সূত্র ধরে একাধিক স্থানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো হয়।










