রোজই ভাঙছে ঘর। এবার তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের পথে পা বাড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘকালের সহযোদ্ধা তথা কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দিল্লিতে বিজেপির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের আরও এক সাংসদ শতাব্দী রায়। এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এই ঘটনায় একদম চাঁচাছোলা ভাষায় তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে কুণাল (Kunal Ghosh) বলেন, “এইগুলো নেত্রীর প্রাপ্য ছিল। এক সময় তিনিই এইসব লোকেদের মাথায় তুলেছিলেন। এই ধরনের কিছু চরিত্র তাঁকে ঘিরে রেখেছে বলেই সত্যিকারের যোগ্য কর্মীরা দল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বাস করেছেন। আমাদের অনেকের আপত্তি না শুনেও তিনি ভরসা রেখেছিলেন, পদ দিয়েছিলেন। সেই ভরসা তিনি আর রাখলেন না।”
বিধায়ক আরও বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। বিজেপি মার্কেটিং-এ বিরাট সাকসেস। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পরচুলা পরা অদ্ভূত চরিত্রের লোককে পেল। তাঁর সঙ্গে একজন ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লারও পেল বিজেপি। উত্তর কলকাতার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। উনি একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছেন। তবে এ বয়সে এসেও এটা করবেন ভাবা যায়নি।”
তাপস রায় সম্পর্কে কুণাল বলেন, “তাপস রায়কে এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দল ছাড়তে হয়েছিল। সজল ঘোষের ওপরেও অত্যাচার করা হয়েছে। একমাত্র আমি টুইট করে দলের বিরুদ্ধে বলে লাথি-ঝাঁটা খেয়েছি। আমি বলেছিলাম মানুষ হিসাবে তাপস রায় ভালো। তাই আমি সাসপেন্ডও হয়েছিলাম। এখন দেখুন কে ভালো কে খারাপ।”
এর আগেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে দেখা গিয়েছে কুণাল ঘোষকে। তৃণমূলের অন্দরে সুদীপ বিরোধী বলে পরিচিত বেলেঘাটার বিধায়ক। সুদীপ-নয়নাকে নিয়ে যখন প্রকাশ্যে তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, সেই সময়ে তাপসের পাশে ছিলেন কুণাল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ফলে দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল।
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই একটু একটু করে প্রায় রোজই ঘর ভাঙছে ঘাসফুল শিবিরের। দলের সিংহভাগ নেতৃত্বই অসন্তুষ্ট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার তকমা ছিনিয়ে আনতে উঠে পড়ে লেগেছে ‘আসল তৃণমূল’। এই নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। আর এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বিজেপির বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে আরও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








