রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

বন্ধুর হাতেই শেষ বিদায়, থেমে গেল ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন: বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন লুকা মদ্রিচ

Luca Modric
---Advertisement---

[ছবি:এক্স]

৪০ বছরের এক কিংবদন্তির শেষ নৃত্য শেষ হল অশ্রু, বিতর্ক আর অপূর্ণতার গল্পে। স্টেডিয়ামের আলো তখনও নিভে যায়নি। স্কোরবোর্ডে জ্বলছে পর্তুগাল ২, ক্রোয়েশিয়া ১। কিন্তু সেই মুহূর্তে ফলাফলের চেয়ে সবচেয়ে বড় গল্প ছিল এক মানুষকে নিয়ে, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একটি দেশের স্বপ্ন, বিশ্বাস আর লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি (Luca Modric) লুকা মদ্রিচ। শেষবারের মতো লাল-সাদা চেকার্স জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে নেমেছেন। টরন্টোর রাতটা শুধু একটি নকআউট ম্যাচের ছিল না। সেটা ছিল একটি যুগের অবসানের সাক্ষী। ৪০ বছর বয়সী (Luca Modric) লুকা মদ্রিচ জানতেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশের ডাকে আবার ফিরেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রিয় বন্ধু ও প্রাক্তন সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হল ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখকে।

পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুরু থেকেই নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ফুটবল খেলছিল ক্রোয়েশিয়া।ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিশিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে মনে হচ্ছিল, মদ্রিচের বিশ্বকাপ সফর আরও কিছুটা দীর্ঘ হবে। কিন্তু ৬৮ মিনিটে VAR সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রোনাল্ডো। এরপর যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবুও নাটক শেষ হয়নি। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে ১০ মিনিটের সংযোজিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায়। বেঞ্চ থেকে সবাই মাঠে নেমে আসে, গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু প্রায় ১০ মিনিটের VAR পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। এক মুহূর্তে আনন্দ বদলে যায় নিস্তব্ধতায়। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় (Luca Modric) লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ অধ্যায়।

জোড়া গোলে বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের ঝড়; পেলেকে টপকে ইতিহাস ইংল্যান্ড অধিনায়কের

২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে পাশাপাশি খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লুকা মদ্রিচ (Luca Modric)। একসঙ্গে ২২২টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন তাঁরা। বহু ট্রফি জিতেছেন, অসংখ্য স্মৃতি তৈরি করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই বন্ধুত্বের শেষ অধ্যায়ে জয়ী হলেন রোনাল্ডো, আর বিদায়ের অশ্রু নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মদ্রিচ।

ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ২০২টি ম্যাচে ২৯ গোল ও ৩২টি অ্যাসিস্ট করা মদ্রিচ শুধুমাত্র একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি দেশের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। বলকান অঞ্চলের মাত্র ৩৯ লক্ষ মানুষের ছোট্ট দেশ ক্রোয়েশিয়াকে তিনি বারবার বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল— প্রতিটি সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই মিডফিল্ড জাদুকর। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে ১২৭ ম্যাচে ১৩টি গোল, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩৯৪ ম্যাচে ৩০ গোল করেছেন (Luca Modric) মদ্রিচ। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ESPN-এর বর্ষসেরা মাঝমাঠের খেলোয়াড় এর পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৮ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অরও।

এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। এরপর পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় তারা। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে গোলের খাতা খুলতে পারেননি মদ্রিচ, তবুও মাঠে তাঁর উপস্থিতি, নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতাই ছিল ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মোদ্রিচি গ্রামের সেই কিশোর, যে যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে একদিন বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মঞ্চে নিজের নাম লিখেছিল, সে আর কোনও দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরবেন না। কিন্তু (Luca Modric) লুকা মদ্রিচের বিদায় মানে শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; এটি একটি যুগের অবসান। ক্রোয়েশিয়া যখনই অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখবে, যখনই ছোট্ট একটি দেশ বিশ্বশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করবে, তখনই ফিরে আসবে একটি মুখ, একটি নাম— লুকা মদ্রিচ। কারণ কিছু কিংবদন্তি ট্রফি দিয়ে নয়, একটি জাতির বিশ্বাস, সাহস এবং স্বপ্ন হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন।

আর ইডেনে খেলবে না নাইট রাইডার্স? নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধন শাহরুখ খানের


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment