আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান-আমেরিকার সংঘাত থেমে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দামে পতন দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—তাহলে কি এবার পেট্রোল ও ডিজেলের দামও কমবে? এই জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।বৃহস্পতিবার তিনি জানান, এখনই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এখনও সেই সস্তা তেল ব্যবহার করছে না। তারা বর্তমানে পরিশোধন করছে কয়েক মাস আগে অনেক বেশি দামে কেনা ক্রুড অয়েল। তাই দাম কমার কথা এখনই বলা যাচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি বিক্রি করতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎই অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলতে দেশের তেল সংস্থাগুলি জ্বালানির দাম খুব একটা বাড়ায়নি। ফলে সেই আর্থিক চাপ তাদেরই বহন করতে হয়েছে।হরদীপ সিং পুরী আরও বলেন, তেল পরিশোধনের জন্য সাধারণত প্রায় দুই মাস আগে থেকেই ক্রুড অয়েল কেনা হয়। বর্তমানে যে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই এপ্রিল এবং মে মাসের শুরুতে কেনা হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম অনেক বেশি ছিল। তাই এখন বাজারে তেলের দাম কমে গেলেও তার প্রভাব খুচরো জ্বালানির দামে এখনও পড়েনি। (Petrol Diesel Price)
তাহলে কবে কমতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ বা আরও দুই-তিন মাস আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকে, তাহলে জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরান-আমেরিকার সংঘাতের সময় বিশ্বের বহু দেশে পেট্রোলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। ভারতের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু ভারতে সেই সময় পেট্রোলের দাম বেড়েছিল মাত্র ৫.৫৮ শতাংশ।
রান্নার গ্যাসের পর এবার স্বস্তি পেট্রোল-ডিজেলেও, কত টাকা কমল জ্বালানির দাম?
এদিকে গত ১ জুলাই বেসরকারি সংস্থা নায়রা এনার্জি পেট্রোলের দাম লিটারপিছু ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা কমানোর ঘোষণা করে। এরপর থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিও কবে দাম কমাবে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে হরদীপ সিং পুরী বলেন, নায়রা আগে নিজেদের জ্বালানির দাম বাড়িয়েছিল বলেই পরে সেই বৃদ্ধির অংশ কমিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি সেই সময় দাম বাড়ায়নি, তাই দুটি পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমলেও এখনই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার নিশ্চয়তা নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে যদি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকে, তবেই সেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ আপাতত দেশের সাধারণ মানুষকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। (Petrol Diesel Price)









