[ছবি:এক্স]
(Donation Theft) অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার জেরায় উঠে এসেছে এমন এক কৌশলের কথা, যা তদন্তকারী সংস্থাকেও বিস্মিত করেছে। (Donation Theft) অভিযোগ, দান গণনার সময় সরানো নগদ অর্থ প্রথমে মন্দির চত্বরে থাকা শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত, পরে অল্প অল্প করে বাইরে পাচার করা হত যাতে কারও সন্দেহ না হয়।
(Donation Theft) মঙ্গলবার আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলা কারাগারের ভিতরে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অবিনাশ শুক্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাকে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তথ্যের মুখোমুখি করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ দাবি করেছে যে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দান গণনা কেন্দ্রের বিন্যাস, সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং কর্মীদের চলাচলের ধরণ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিল।
অভিযোগ, দান গণনার সময় অর্থ সরিয়ে তা প্রথমে মন্দিরের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত। এরপর সময় নিয়ে অল্প অল্প করে সেই টাকা বাইরে নিয়ে যাওয়া হত। এই তথ্যের ভিত্তিতে এখন মন্দির প্রাঙ্গণে নগদ অর্থের গতিপথ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। শৌচাগারের দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
(Donation Theft) তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সিসিটিভির নজর এড়াতে অভিযুক্তরা বিশেষ কৌশল নিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, এক ব্যক্তি দানের টাকা সরানোর সময় অন্যরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দৃশ্যপথ আটকে দিত, ফলে নজরদারি ব্যবস্থাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হত।
জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ আরও দাবি করেছে যে, অত্যন্ত সুরক্ষিত দান গণনা কক্ষের দুটি চাবির মধ্যে একটি ছিল সহ-অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুর কাছে, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন না। অন্য চাবিটি ছিল গণনার দায়িত্বে থাকা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে। বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা টিন্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।এদিকে (Donation Theft) তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে অর্থের উৎস ও বিনিয়োগের হদিস। অভিযোগ, তছরুপ হওয়া অর্থের একটি অংশ জমি, হস্টেল এবং আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সম্পত্তির নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা নগদ, ১,১২১ মার্কিন ডলার এবং সোনা ও রুপোর গয়না উদ্ধার হয়েছে। (Donation Theft) তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং নতুন তথ্যপ্রমাণ রামমন্দিরের দান তছরুপ কাণ্ডকে আরও গভীর ও বিস্তৃত তদন্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: চালের ড্রামে ভেজা ফোন? উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি!










1 thought on “শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা টাকা পরে পাচার হত ! রামমন্দিরে তহবিল তছরুপে চাঞ্চল্যকর তথ্য”