আমেরিকার ওহাইও (Ohio)-র উস্টার (Wooster) শহরের একটি মোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্রাণ হারালেন গুজরাটের খেদা জেলার নাদিয়াদ এলাকার এক দম্পতি ও তাঁদের কন্যা। নিহতরা হলেন হিতেশভাই সুথার ও তাঁর স্ত্রী হিনাবেন এবং তাঁদের বছর ২০-র এক কন্যাসন্তান ঈশানি। সূত্রের খবর, কর্মসূত্রে ২ বছর আগে ওহাইও-র উস্টারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন এই দম্পতি (Gujarat Couple)।
দম্পতির পরিবার সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল ‘ইকোনো লজ’ (Econo Lodge) মোটেলে, যেখানে হিতেশভাই কাজ করতেন। স্থানীয় সময় রাত দেড়টা নাগাদ আগুন লাগে। ওইদিন সেখানেই ছিলেন, হিতেশভাইয়ের স্ত্রী ও কন্যা। প্রথমে ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দমকল কর্মীদের খবর দেন । দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন হোটেলের ছাদ থেকে প্রচুর ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে (Gujarat Couple)।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় পরিবারের ৩ জনই ঘরের ভিতরে ছিলেন। আগুন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের আবেদনের জন্য মোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে ফোন করেছিলেন।
তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বাথরুমের ভিতরে জলের লাইন চালু করতে এবং নিরাপত্তার জন্য সেখানেই থাকতে। সেই কথা মতো নিজেদের বাঁচাতে ৩ জনই বাথরুমের ভিতর চলে যান। যতক্ষণে ঘটনাস্থলে দমকলের কর্মীরা আসেন,ততক্ষণে হাতের বাইরে চলে যায় সবকিছু। বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে প্রাণ চলে যায় জলজ্যান্ত ৩টি প্রাণ। স্থানীয় সূত্রে খবর, আটকে পড়া দম্পতিদের কাছে পৌঁছনোর জন্য দমকলকর্মীরা অনেক চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু পারেননি।
এক স্থানীয়র বক্তব্য, “আমরা বেশ কয়েকটি ইউনিটে আগুন জ্বলতে এবং ছাদ ভেদ করে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসতে দেখেছি। বেশ কয়েকবার উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও দুর্ভাগ্যবশত তা সফল হয়নি এবং মোটেলের তিনজন বাসিন্দার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেছিল।”
ওই মোটেলের এক কর্মী আতঙ্কের সেই মুহূর্তের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, আটকা পড়া পরিবারটি সাহায্যের জন্য তাঁকে ফোন করেছিল। তিনি তাঁদের কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন, কারণ তাঁরা আগুনের তাপে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না। তাঁরা বলছিলেন, প্লিজ, প্লিজ আমাদের বাঁচান। সেই সময়ে তিনি তাৎক্ষণিক ৯১১-এ কল করেন এবং জরুরি সেবাকর্মীদের বিষয়টি জানান।
এই ঘটনায় হতা-হতের আর কোনও খবর নেই। যদিও আগুন নেভানোর সময় এক দমকল কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।










