তীব্র গরম। গরমে মোমের মতো গলছে ট্রাম লাইন। কোথাও আবার পিচ গলতে শুরু করে দিয়েছে। না, এই ছবি ভারতের নয়। তীব্র গরমে ফুটছে গোটা ইউরোপ (Europe Heatwave)। ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে তাপমাত্রা। বিশ্ব সংস্থা WHO-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২১ জুনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই গরমে মৃত্যু হয়েছে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকে। ইউরোপের একাধিক দেশে জারি হয়েছে সতর্কতা। কিন্তু কেন এই গরম? কেন এই মৃত্যু মিছিল?
ইউরোপের (Europe Heatwave) মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডে। জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪৩.৮ ডিগ্রির ঘর ছাড়িয়েছে। এমনকি নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া এবং সুইৎজারল্যান্ডেও রেকর্ড গড়েছে তাপমাত্রা। ডেনমার্কের মতো মৃদু জলবায়ুর দেশগুলোতেও নজিরবিহীনভাবে তাপমাত্রা বেড়েছে। কিন্তু কেন? তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ কী?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অস্বাভাবিক গরমের পিছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। এ ছাড়াও রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’-র প্রভাব। ‘এল নিনো’ একটি স্বাভাবিক আবহাওয়া চক্র। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলের উপরি ভাগ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম হয়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই আবহাওয়া চক্র ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ‘এল নিনো’ সক্রিয় হলে বায়ুমণ্ডলের উপর বড়সড় প্রভাব ফেলে। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গরম, আর্দ্রতা এবং ঝড়ের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা WHO-র দাবি, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম মহাদেশ হলো ইউরোপ। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলিকে দ্রুত Heat Health Action Plan কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চরম গরম মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত ও শক্তিশালী করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় WHO প্রধান টেড্রোস বলেন, “হিট স্ট্রেস বা অতিরিক্ত গরমকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও স্কুল এত বেশি তাপমাত্রার জন্য তৈরি নয়।”
অসহনীয় গরমের নানা ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও গলছে রাস্তা, কোথাও উষ্ণতার চাপে বেঁকে যাচ্ছে ট্রামলাইন। গরম থেকে স্বতি ফেরাতে জার্মানির বার্লিনে রাস্তায় ছোড়া হচ্ছে জলকামান।





