মুম্বইয়ের ভাসাই সমুদ্রসৈকত থেকে রবিবার প্রায় ১.৫ টন আবর্জনা সরিয়ে ফের আলোচনায় এলেন পরিবেশকর্মী লিসবন ফেরাও। দীর্ঘদিন ধরে মুম্বই ও সংলগ্ন উপকূল এলাকায় সৈকত পরিষ্কার রাখার কাজে যুক্ত তিনি। তাঁর সঙ্গে এদিন বহু স্বেচ্ছাসেবীও এই অভিযানে অংশ নেন। প্লাস্টিক, কাচের বোতল, থার্মোকল, মাছ ধরার জাল, খাবারের মোড়ক, জুতো-সহ নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। (Lisbon Ferrao)
পরিবার থেকেই শুরু পথচলা
লিসবন ফেরাওয়ের পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুরু হয় একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে। একদিন তিনি দেখেন, তাঁর ছোট সন্তানরা সৈকতে খেলছে, আর চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে মদের বোতল ও নানা আবর্জনা। সেই দৃশ্য তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে সৈকত পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে তাঁর ডাকে কেউ সাড়া দেননি। পরে সামাজিক মাধ্যমে পরিষ্কারের আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। (Lisbon Ferrao)
চারজন থেকে ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী
একসময়ের চার সদস্যের পারিবারিক উদ্যোগ আজ বড় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত। শিশু, পড়ুয়া, পরিবার-সহ নানা বয়সের মানুষ নিয়মিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রতি শনিবার ভাসাই সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। (Lisbon Ferrao)
সচেতনতার বার্তা
স্থানীয়দের কাছে লিসবন ফেরাও ‘হিরো ড্যাড’ নামেও পরিচিত। পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে তিনি নিয়মিত সমাজমাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ছবি ও ভিডিও ভাগ করে নেন। রবিবারের অভিযানের পর তিনি জানান, পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের শুরু। এদিনের অভিযানে ১.৫ টনের বেশি আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান এবং পরিবেশ রক্ষার কাজে আরও মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অজৈব বর্জ্য সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় বিপদ। এগুলি ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করতে পারে। তাই এমন উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। (Lisbon Ferrao)
আরও পড়ুন :- শাহরুখের ‘কিং’ ঘিরে রেকর্ড ব্যবসা, ৫০ কোটির মিউজিক রাইটসের দৌড়







