সামনেই জন্মাষ্টমী। দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে যাবে নন্দলালকে ঘিরে উৎসবের প্রস্তুতি। বাড়িতে বাড়িতে পুজো হবে নাড়ু গোপালের, শোনা যাবে কৃষ্ণের নাম। ভারতীয় সংস্কৃতি ও পুরাণে শ্রীকৃষ্ণের মাহাত্ম্য যে কতটা গভীর, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর কৃষ্ণ মানেই তো সঙ্গে থাকবেন রাধা। তবে জানেন কি, ভারতের এমন একটি মন্দির রয়েছে, যেখানে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরাধিকা নন, পূজিতা হন কংসের দাসী কুব্জা? মথুরার বুকে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে কৃষ্ণের পাশে কুব্জার অবস্থান সত্যিই বিরল।
ভারতীয় পুরাণের বৈচিত্র্য এমনই যে, দেশের এক এক প্রান্তে ধর্মীয় বিশ্বাস ও কৃষ্ণলীলার এক এক রূপ দেখতে পাওয়া যায়। ব্রজভূমির কথা উঠলেই যেমন রাধা-মাধবের প্রেমের কথা মনে আসে, তেমনই মথুরার এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অন্যরকম ভক্তি ও করুণার কাহিনি।
Unknown Krishna Temple: কৃষ্ণকে চন্দন দিয়েছিলেন কুব্জা
পৌরাণিক কাহিনি এবং স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, কুব্জা ছিলেন মথুরার রাজা কংসের অনুগতা। শারীরিক গঠনের কারণে তিনি ছিলেন কুঁজো এবং নিজের এই চেহারা ও শারীরিক যন্ত্রণার জন্য কষ্ট পেতেন। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কংসের জন্য সুগন্ধি চন্দন লেপন তৈরি করতেন।
মল্লযুদ্ধের আগে শ্রীকৃষ্ণ যখন মথুরায় আসেন, তখন কুব্জার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। কৃষ্ণকে দেখে কুব্জা তাঁর জন্যও সেই চন্দন অর্পণ করেন। তাঁর দেওয়া চন্দনে মিশে ছিল গভীর ভক্তি ও ভালোবাসা।
কথিত আছে, কুব্জার সেই আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শরীরে স্পর্শ করেন। আর সেই স্পর্শেই ঘটে অলৌকিক ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে কুব্জার কুঁজো শরীর সোজা হয়ে যায়। তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্ট দূর হয় এবং প্রকাশ পায় অসাধারণ রূপ। ভক্তের কষ্ট দূর করে তাঁর জীবনে নতুন আলো এনে দেওয়ার এই কাহিনিই মন্দিরটির বিশ্বাসের অন্যতম মূল ভিত্তি।
মন্দিরে ঘণ্টা বাজানোরও রয়েছে নিয়ম, না মানলে হতে পারে হতে পারে বিপদ
কৃষ্ণের পাশে নেই রাধিকা, রয়েছেন কুব্জা
এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এখানেই। সাধারণত যেকোনও জায়গাতেই শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে রাধার বিগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু এই ৫০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরে কৃষ্ণের পাশে শ্রীরাধিকার জায়গায় রয়েছেন কুব্জা। কৃষ্ণের প্রতি তাঁর ভক্তি ও আত্মসমর্পণের স্মৃতি আজও মন্দিরের আরাধনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। (Unknown Krishna Temple)
ভক্তরা মনে করেন, আন্তরিক বিশ্বাস নিয়ে এখানে পুজো করলে এবং চরণামৃত গ্রহণ করলে চর্মরোগ ও বিভিন্ন শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই ব্যাধিমুক্তির আশায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এই মন্দিরে আসেন।












