হিন্দু ধর্মে মন্দিরে গিয়ে ঘণ্টা বাজানো বহুদিনের প্রচলিত রীতি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘণ্টার পবিত্র ধ্বনি চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং শুভ শক্তির পরিবেশ তৈরি করে। তবে শাস্ত্রবিদদের মতে, মন্দিরে যখন-তখন ঘণ্টা বাজানো উচিত নয়। ঘণ্টা বাজানোরও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম। সেই নিয়ম ভুল হলে নাকি হিতে বিপরীত হতে পারে। কী সেই নিয়ম?
মন্দিরে ঢোকার সময়ই বাজান ঘণ্টা
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে প্রবেশের সময় ঘণ্টা বাজানো সবচেয়ে শুভ। ঘণ্টার শব্দে চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং পবিত্র পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক বড় মন্দিরের প্রবেশদ্বারে তাই বিশাল ঘণ্টা ঝোলানো থাকে। সেগুলি বাজালে যে গভীর ‘ওম’ ধ্বনির মতো শব্দ তৈরি হয়, তা মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। মন শান্ত হলে ভগবানের আরাধনা ও ধ্যানে মন বসানোও সহজ হয়। (Astro Tips)
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে প্রবেশের সময় ঘণ্টা বাজালে শুভ বা ইতিবাচক শক্তির জাগরণ ঘটে। তাই মন্দিরে ঢোকার সময় নিয়ম মেনে ঘণ্টা বাজানোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাস্তু মেনে ঘরে রাখুন হনুমানজির ছবি, ফিরবে সুখ-শান্তি
লক্ষ্মীপুজোয় ঘণ্টা বাজানো নিয়ে সতর্কতা
তবে দেবী লক্ষ্মীর পুজোর ক্ষেত্রে রয়েছে আলাদা নিয়ম। বিশ্বাস করা হয়, মা লক্ষ্মী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের দেবী এবং তিনি শান্ত পরিবেশেই থাকতে পছন্দ করেন। তাই জোরে ঘণ্টা বাজানোর শব্দ তাঁর পছন্দ নয় বলে মনে করা হয়।বিশেষ করে বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর পুজো করার সময় ঘণ্টা না বাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নিয়ম না মানলে বাড়ির লক্ষ্মীশ্রী বা সমৃদ্ধি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মন্দির থেকে বেরনোর সময় ঘণ্টা নয়
ঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা বলা হয়েছে। পুজো শেষ করে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় আবার ঘণ্টা বাজানো উচিত নয়। কারণ, বিশ্বাস করা হয় মন্দিরে প্রবেশের সময় ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে যে শুভ শক্তির সৃষ্টি হয়, বেরনোর সময় আবার ঘণ্টা বাজালে সেই ইতিবাচক শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। (Astro Tips)
তাই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে প্রবেশের সময় ভক্তিভরে ঘণ্টা বাজানো যেতে পারে। কিন্তু পুজো শেষে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার পথে ঘণ্টা বাজানো এড়িয়ে চলাই ভালো।













2 thoughts on “মন্দিরে ঘণ্টা বাজানোরও রয়েছে নিয়ম, না মানলে হতে পারে হতে পারে বিপদ”