পার্ক স্ট্রিটের বৃদ্ধার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে সরব হন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে পার্কস্ট্রিটে বাচ্চার জন্য দুধ গরম করা বৃদ্ধাকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভর্ৎসনা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছিলেন। তারপরই আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যায় ওই পরিবার। এই প্রসঙ্গেই এবার সরব হলেন কুণাল।
‘মমতা বলার পরেই কেন ব্যবস্থা?’ প্রশ্ন কুণালের
পার্ক স্ট্রিটের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ ডাকা প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন কুণাল (Kunal Ghosh)। তাঁর দাবি, শনিবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেখানে গিয়ে যেভাবে ধমক ও হুমকি দিয়েছেন, তা অমানবিক। “গরিব কেউ শখ করে হয় না। ভোটের আগে গরিব বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে ছবি তুলতে ভালো লাগে, আর ভোটের পর সেই দাপটে সরিয়ে দেওয়া হয়,” বলেন তিনি।
কুণালের প্রশ্ন, শনিবারের পর রবিবার, সোমবার সরকার কী করছিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলার পরেই কেন পুলিশকে দিয়ে পরিবারটিকে তুলে আনা হলো? আগে কেন মুখ্যমন্ত্রী বলেননি যে সরকার তাঁদের দায়িত্ব নেবে? তাঁর দাবি, মমতার ঘোষণার পর চাপের মুখেই এই পদক্ষেপ হয়েছে। “এর মানে একটা জিনিস প্রমাণিত হল, অগ্নিমিত্রা পাল ভুল করেছিলেন,” মন্তব্য কুণালের।
মুখ্যমন্ত্রীকে নারী বিদ্বেষী তকমা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে রাস্তায় বেরোতে না পারেন, তা দেখবেন—সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন কুণাল। তাঁর দাবি, একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে হুমকি দেওয়া নজিরবিহীন। “মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, রাষ্ট্রপতি কোথায়? এটা তো গুন্ডাদের ভাষা,” বলেন তিনি।
মমতার বয়স নিয়ে মন্তব্যের পাল্টা কুণাল (Kunal Ghosh) বলেন, তাঁকে সামলাতে না পেরেই বয়স নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে হাঁটা ও এক্সারসাইজের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জও দেন তিনি। মমতার কাগজে-কলমে বয়স বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি বলেও দাবি করেন কুণাল।
নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, মমতার থেকে কয়েক বছরের বড় মোদিকে নিয়ে একই কথা বলা হচ্ছে না কেন? শুভেন্দু অমিত শাহের ‘ক্যাম্প’ করছেন দাবি করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “নরেন্দ্র মোদিকে সরানোর জন্য অমিত শাহের ক্যাম্প থেকে এসব করানো হচ্ছে না তো?” তাঁর দাবি, শুভেন্দু হয়তো অমিত শাহকে প্রোজেক্ট করতে চাইছেন।
২০ সাংসদকে নোটিশ, ছাত্র দিবস নিয়ে বিজেপির কোন্দল
২০ জন NCPI সাংসদকে নোটিশের প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের বিষয়টি বিস্তারিত বলেছেন। তাঁর দাবি, আইন তৃণমূলের পক্ষেই এবং তৃণমূলের টিকিটে জিতে ৪ তারিখের পর বিজেপির সঙ্গে ঘোরা পুরো বিষয়টাই আইন ও নীতিবিরুদ্ধ।
এদিন ছাত্র দিবস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে, তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে।” ২১ জুলাইয়ের জনসমাগমের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও জনজোয়ারে জায়গা উপচেছে, আবার কোথাও চেয়ার খালি পড়ে থেকেছে।
বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে কুণালের দাবি, এবার নিজেদের কর্মীকেই খুনের অভিযোগ উঠছে। বর্তমানে রাজ্যে পুলিশের ক্ষমতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এক বিধায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সারারাত তাণ্ডবের কথা বলছেন, অন্য বিধায়ক থানায় গিয়ে অফিসারকে হুমকি দিচ্ছেন। তবে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে তৃণমূল তা সমর্থন করে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
শেষে দিলীপ ঘোষকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। তিনি বলেন, দিলীপবাবু প্রচারে পিছিয়ে পড়েছেন। একটি বিয়ে করে সবাইকে প্রচার থেকে ‘আউট’ করে দিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এখন ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির অন্য নেতারা যে ধরনের কাজ করছেন, তাতে দিলীপ ঘোষ পিছিয়ে পড়েছেন। তাই এন কে সলিলের মতো বক্তব্য দিয়ে প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছেন বলে কটাক্ষ কুণালের।










1 thought on “‘মমতাদির কথা বলার পরেই ঘুম ভাঙল?’ পার্ক স্ট্রিট ইস্যুতে শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমণ কুণালের”