দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের। রাজ্যে পালাবদলের সুযোগ নিয়ে এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে মোটা টাকার বিনিময়ে বিজেপিতে ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল নিহত বাপি প্রামাণিকের পরিবার। তাঁদের দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে তৃণমূলের লোকজনকে বিজেপিতে ঢোকানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতে আপত্তি ছিল দীর্ঘদিনের পুরনো বিজেপি কর্মী বাপির। আর সেই আপত্তির জেরেই তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন চারজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সাসপেন্ড হওয়া মণ্ডল সভাপতি সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণা মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলায় চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিবাদের কথাও উঠে এসেছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আসল কারণ পুজো কমিটির বিবাদ নয়। এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক দলবদলের ‘লেনদেন’। (Baruipur Murder Case)
পরিবারের দাবি, এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তার জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান বলে অভিযোগ। মহিলা মোর্চার নেত্রী মৌসুমী মণ্ডলের বিরুদ্ধেও একইভাবে টাকা নিয়ে তৃণমূলের লোকজনকে বিজেপিতে ঢোকানোর বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবারের তরফে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
বারুইপুরে BJP কর্মী খুনে নয়া মোড়! গ্রেফতার দলের বরখাস্ত নেতা-সহ ৪
কিন্তু বাপি প্রামাণিক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বলেই দাবি তাঁর পরিবারের। বরং তিনি এই ধরনের ‘টাকার বিনিময়ে দলবদল’-এর বিরোধিতা করেছিলেন। পরিবারের দাবি, ১০ লক্ষ টাকা ভাগ করে নেওয়ার কথাও বাপিকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপির একাংশের বিরোধ তৈরি হয়। (Baruipur Murder Case)
বাপির মেয়ে মন্দিরা সর্দারের অভিযোগ, “বাবাকে সরিয়ে দিতে পারলেই ওদের পথ পরিষ্কার হয়ে যেত।” তাঁর দাবি, টাকার বিনিময়ে তৃণমূলের লোকজনকে বিজেপিতে ঢোকানোর বিরোধিতা করাই বাবার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।
যদিও তদন্তে এখনও খুনের কারণ স্পষ্ট নয়। তবে চারজনের গ্রেফতারির পর বারুইপুরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক টাকার লেনদেন ও দলবদলের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এদিকে বাপির খুনের বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে পরিবার। তাঁদের দাবি, একজন পুরনো বিজেপি কর্মীকে কেন প্রাণ দিতে হলো, আসল সত্য সামনে আসুক এবং দোষীদের ফাঁসির ব্যবস্থা করা হোক। (Baruipur Murder Case)










1 thought on “টাকা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে ঢোকানোর প্রতিবাদেই খুন? বারুইপুরে বাপি হত্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের”