রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একাধিক জায়গায় জটিলতা এখনও কাটেনি। কোথাও যোগ্য মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ, আবার কোথাও প্রকল্পের টাকা চলে যাচ্ছে ভুল অ্যাকাউন্টে। এবার মুর্শিদাবাদে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো। অন্নপূর্ণা যোজনার কড়কড়ে ৩ হাজার টাকা ঢুকে গেল এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি জানার পর সেই টাকা নিজের কাছে না রেখে ফেরত দিতে সটান বিডিও অফিসে হাজির হলেন ওই ব্যক্তি।
Annapurna Yojona: পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা
ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের খড়কাঠি এলাকার। সেখানকার বাসিন্দা সামজাদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। অভিযোগ, গত ১৭ অগস্ট হঠাৎ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায় অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা। বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হয়ে যান তিনি। কারণ, তিনি পুরুষ এবং অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য কোনওদিন আবেদনও করেননি।
সামজাদ জানান, তাঁর পুত্রবধূ প্রথমে তাঁকে বিষয়টি জানান। পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে তিনি নিশ্চিত হন যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাই ঢুকেছে। তাঁর কথায়, প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকার কথা নয়। তাই ভুল করে আসা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
বাড়ছে চিনির দাম, লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
সামজাদের জামাই টুটুল শেখের দাবি, তাঁর শ্বশুর অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেননি এবং এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্যও নন। পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সামজাদের অ্যাকাউন্টের কোনও এমন যোগসূত্রও নেই, যার কারণে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে। ফলে কীভাবে টাকা এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
টাকা ফেরাতে বিডিও অফিসে, শুরু প্রক্রিয়া
ঘটনার পর রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের বিডিও অফিসে যোগাযোগ করেন সামজাদরা। জানা গিয়েছে, ট্রেজারি চালানের ফর্ম পূরণ করিয়ে ওই টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।এই প্রসঙ্গে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের বিডিও শুভময় মাঝি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। যদিও সামজাদের পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতি অথবা কোনও ভুলের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে প্রশ্নের পর অন্নপূর্ণাতেও গলদ?
অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দেওয়ার আগে যোগ্য প্রাপকদের ভেরিফিকেশন করা হবে- এমনটাই বারবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টেও ঢুকেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নেওয়ার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, বহরমপুর ও রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকা থেকে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। (Annapurna Yojona)
কিন্তু এত কড়াকড়ির পরেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকাও একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাতেও কি কোথাও গলদ থেকে গেল? যদিও ঠিক কোথায়, কার ভুলে এমনটা হলো তা যথাযথ তদন্তের পরেই বোঝা যাবে।












1 thought on “অন্নপূর্ণার টাকা পুরুষের অ্যাকাউন্টে, তারপর যা করলেন…”