রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

নেপালে হড়পা বান, নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়

Published on: August 26, 2026
---Advertisement---

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ ৩৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বত সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রাসুওয়াগাধি-তিমুরে এলাকা ভেসে যায়। এখনও পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংস হয়েছে সেতু, রাস্তা, গাড়ি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। তবে এই মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। (Nepal Flood Update)

নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকও রয়েছেন। কয়েকজ কোন দেশের তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। (Nepal Flood Update)

কৈলাস যাত্রার তীর্থযাত্রীরাও নিখোঁজ

নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার বহু তীর্থযাত্রী রয়েছেন। কাঠমান্ডুর টাচ কৈলাশ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাসু কুমার অধিকারী জানান, বুধবার ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। দুপুর ৩টে পর্যন্ত কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানান অধিকারী। তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রেকিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের সভাপতি সাগর পাণ্ডে।

নিখোঁজ ২৬ পুলিশকর্মী

রাসুয়ায় ২৬ জন পুলিশকর্মীও নিখোঁজ। তিমুর, স্যাব্রুবেশি, মাইলুং ও রাসুওয়াগাধিতে তাঁদের মোতায়েন করা হয়েছিল। নুওয়াকোটের বিদুর পুরসভা এলাকায় ত্রিশূলী নদীর কাছ থেকে চারটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। (Nepal Flood Update)

১৪ হেলিকপ্টারে চলছে উদ্ধারকাজ

নেপাল আর্মি, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও নেপাল পুলিশ উদ্ধারকাজে নেমেছে। ১৪টি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপাল আর্মি জানিয়েছে, স্যাফ্রুবেশি থেকে ছয় জন, মাইলুং থেকে দু’জন এবং ধুনছে থেকে চার জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রিশূলীতে আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ কেন্দ্রও তৈরি হয়েছে।

বিহার-উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা

বানের প্রভাব ভারতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল বাড়ায় বিহার ও উত্তরপ্রদেশে সতর্কতা জারি হয়েছে। জল নেমে গন্ডক নদীতে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন। জরুরি পরিস্থিতির জন্য এনডিআরএফ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। (Nepal Flood Update)

বানের কারণ এখনও অজানা

হড়পা বানের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাসুয়ায় বৃষ্টির কারণে এই জলস্ফীতি হয়নি। তিব্বতের দিকে হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়া, ধস বা নদী সাময়িক আটকে যাওয়ার মতো কোনও ঘটনা থেকে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দফতরের তথ্য আধিকারিক দিনকর কৈস্থ জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে। তিব্বতের দিক থেকে আরও বিপদের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ভেসে গিয়েছে সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তপথ

রাসুয়ার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাস্টমস চত্বরে থাকা গাড়ি ও পণ্য ভেসে গিয়েছে। সদ্য তৈরি একটি সেতুও ধ্বংস হয়েছে। স্যাপ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সাল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেশি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশূলী ও বট্টার-সহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। ধাদিংয়ের গাজুরির একটি সেতুও ভেসে গিয়েছে। চিনের সঙ্গে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ রাসুওয়াগাধিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (Nepal Flood Update)

ক্ষতি আট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে

হড়পা বানের ধাক্কা পড়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও। আটটি চালু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নির্মীয়মাণ পাঁচটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চালু প্রকল্পগুলির মোট ক্ষমতা ৩৫৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রয়েছে ১১১ মেগাওয়াটের রাসুওয়াগাধি, ৭৮ মেগাওয়াটের সাঞ্জেন খোলা এবং ৬০ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প।

নদীর ধার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ

রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও গোরখা জেলায় সতর্কতা জারি করেছে নেপাল প্রশাসন। ত্রিশূলী-সহ বিভিন্ন নদীর কাছাকাছি থাকা মানুষকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে।

পর্যটকদেরও শান্ত থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে। (Nepal Flood Update)

আরও পড়ুন :- হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃত ৮; বিহারে হাই অ্যালার্ট


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment