উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। রাজ্যের মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে একের পর এক প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি যেমন মহিলা ও প্রবীণদের জন্য একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে, তেমনই সমাজবাদী পার্টিও মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে বড় ঘোষণা করেছে। (Stree Samman Samriddhi Yojana )
লখনউয়ে দলের প্রধান অখিলেশ যাদবের উপস্থিতিতে মইনপুরীর সাংসদ ডিম্পল যাদব ‘স্ত্রী সম্মান সমৃদ্ধি যোজনা’র ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প চালু করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের বছরে ৪০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
ডিম্পল যাদবের দাবি, ‘স্ত্রী সম্মান সমৃদ্ধি যোজনা’ (Stree Samman Samriddhi Yojana) শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মহিলাদের ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগতভাবে ক্ষমতায়নের উপরও জোর দেওয়া হবে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, অর্থ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ—এই পাঁচটি মূল স্তম্ভের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপিও মহিলা ভোটারদের কথা মাথায় রেখে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলেছে। প্রবীণ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য চারটি কিস্তিতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার একটি প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফলে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী লড়াইয়ে মহিলা ভোটারদের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। একদিকে বিজেপির মহিলা-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ, অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির বছরে ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং প্রতি বছর সেই অঙ্ক বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি—দুই শিবিরের প্রতিশ্রুতির লড়াই এখন রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। (Stree Samman Samriddhi Yojana)
থাকা যাবে না প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে, ৭০০টি পরিবারকে সরার নির্দেশ
মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর প্রশ্ন, সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পরেও কেন তা কার্যকর করতে দেরি করা হচ্ছে? আসন্ন নির্বাচনেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাখিবন্ধন উপলক্ষে মহিলাদের জন্য বাস পরিষেবার মতো পদক্ষেপের পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও বিজেপির দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির কাছে ‘নারী’ বিষয়টি এখন নির্বাচনী স্লোগানে পরিণত হয়েছে। নারী সম্মান ও ‘নারী বন্দনা’র কথা বলার সময় দেশের মানুষকে হাতরাসের ঘটনাও মনে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনায় মা ও মেয়ের উপর নৃশংস অত্যাচার করা হয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে প্রতিশ্রুতির লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।











