সীমান্তে নিরাপত্তার স্বার্থে কাঁটাতার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জমি অধিগ্রহণ শুরু হওয়ায় মাথায় হাত ইছামতি নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের। দেশের নিরাপত্তা তাঁরাও চান, তা বলে মাথায় ছাদ হারাবেন নাকি? উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সামশেরনগর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর পরিকল্পনা ঘিরেই এবার উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জেরে বসতভিটে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মৎস্যজীবীদের রুজি-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এই আশঙ্কায় সরব হয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী এবং সাধারণ গ্রামবাসীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিরোধিতা তাঁরা করছেন না। তবে সেই কাজের জন্য যেন নদীপাড়ের মানুষের ভিটেমাটি ও জীবিকা কেড়ে নেওয়া না হয়।
Ichamati Riverside Fencing: ১৫০ ফুট জমি অধিগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের দাবি, হিঙ্গলগঞ্জের ইছামতি নদীর পাড় থেকে প্রায় ১৫০ ফুট জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা বহু গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে নদীর উপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবী পরিবারগুলির জীবিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। একই সঙ্গে বহু মানুষের বসতভিটা এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইছামতি নদীর পাড় থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে সেই মিছিল হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে পৌঁছয়। সেখানে বিডিও দেবদাস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।
নিরাপত্তায় আপত্তি নেই, দাবি ভিটেমাটি ও জীবিকা রক্ষার
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা বোঝেন। দেশের নিরাপত্তার জন্য কাঁটাতার দেওয়া হলে তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের বসতভিটা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জীবন-জীবিকার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। (Ichamati Riverside Fencing)
স্থানীয়দের দাবি, অবিভক্ত বাংলার সময় থেকেই ইছামতি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই গঞ্জ। ১৭৮৩ সাল থেকেই এই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই ব্যবসায়িক পরিকাঠামো ও ঐতিহ্যকে আঁকড়েই বহু পরিবার জীবনযাপন করে আসছে।
হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃত ৮; বিহারে হাই অ্যালার্ট
তাই কাঁটাতারের জন্য জমি অধিগ্রহণের আগে এলাকার মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, পরিকল্পনা কার্যকর হলে শুধু জমি নয়, বহু মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যবসা এবং নদী-নির্ভর জীবিকাও বিপদের মুখে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ইছামতি পাড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনই নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের বসত ভিটে ও রুজি-রোজগার যাতে হারিয়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।












