বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত আইনের বিরোধিতায় একজোট হলেন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষক সংগঠনগুলি। (WBCUTA Protest) প্রায় ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠনের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ উঠল, শিক্ষকদের সম্মতি ছাড়া বদলির ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে যৌথ আপিল জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
WBCUTA Protest: ‘২০১৭ সাল থেকেই প্রতিবাদ’
ওয়েবকুটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালে আইনটি পাশ হওয়ার সময় থেকেই এর বিরোধিতা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষকরা নিয়োগপত্র পাওয়ার সময় বদলির কোনও প্রভিশন ছিল না। পরবর্তীতে আইনে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট ট্রান্সফার’-এর ধারা যুক্ত করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে তা কার্যত ‘পানিশমেন্ট ট্রান্সফার’-এর নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আইনের প্রত্যাহার চেয়ে মামলা এখনও চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন নিয়ে প্রশ্ন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থপ্রতিম রায়ের দাবি, শিক্ষকদের সম্মতি ছাড়া বদলি করা যাবে না—এমন একাধিক হাইকোর্টের রায়ের নজির রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, বদলির কথা বলা হলেও তার জন্য নির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কোথায়? তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যাকাডেমিক উন্নতিও বাধাপ্রাপ্ত হবে। ইউজিসি-র নির্ধারিত মানদণ্ড মেনেই শিক্ষক নিয়োগ হয় বলেও জানান তিনি।
দুর্গাপুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে মদের দাম! ১ অক্টোবর থেকে নয়া মূল্য কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতি
‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩ শতাংশ পদ খালি’
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহালয়া চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত পাঁচ বছরে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েই দীর্ঘ জটিলতা দেখা গিয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষক পদ খালি, ছোট বিভাগগুলিতে এক-দু’জন শিক্ষক নিয়েই কাজ চলছে।
গবেষণায় বড় প্রভাবের আশঙ্কা
গবেষক পরিপূর্ণা মজুমদারের অভিযোগ, সুপারভাইজার বদলি হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। এমনকি টাইটেল রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে PHD-র ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষত ফার্স্ট-জেনারেশন লার্নারদের উপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। (WBCUTA Protest)
WBCUTA Protest: পুজোর আগেই আন্দোলনের প্রস্তুতি
আবুটা-র গৌতম মাইতি জানান, আগে থেকেই উচ্চশিক্ষা দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এবার রাজ্যপালকে যৌথ চিঠি, সিগনেচার ক্যাম্পেন, সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে একদিনের প্রতিবাদ এবং শিক্ষক কনভেনশনের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাধান না হলে পুজোর আগেই বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। আইনি পরামর্শ নেওয়াও শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।










