বন্যার জলে কার্যত বিচ্ছিন্ন মালদার মানিকচকের ভূতনি। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ জলবন্দি। (Bhutni Flood)বহু বাড়িঘর এখনও জলের তলায়। কোথাও অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ছুটছে পুলিশ, আবার কোথাও খাবারের অভাবে সমস্যায় পড়া পোষা পশুর জন্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গো-খাদ্য। দুর্গতদের হাতে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিতে প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে মালদার ব্যবসায়ী মহলও। রবিবার একাধিক জায়গায় ত্রাণ ও পরিস্থিতি পরিদর্শনের মাধ্যমে বন্যায় আক্রান্ত মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়। (Bhutni Flood)
অসুস্থ মহিলাকে নৌকায় উদ্ধার
ভূতনি থানায় এক মুমূর্ষু মহিলার অসুস্থতার খবর পৌঁছয়। খবর পেয়েই সাব-ইন্সপেক্টর হীরা শেখের নেতৃত্বে পুলিশ নৌকা নিয়ে জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছয়। বিপজ্জনক জলমগ্ন রাস্তা পেরিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন পুলিশকর্মীরা। শুধু মানুষ নয়, বন্যায় আটকে থাকা পোষা পশুর দিকেও নজর দেন তাঁরা। স্থানীয় এক সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পশুপাখির জন্য গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়। (Bhutni Flood)
প্রশাসনের হাতে ব্যবসায়ীদের ত্রাণ
রবিবার জেলা প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয় মালদার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স, মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বঙ্কিমচন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে চাল, ডাল, ৫০ কেজি আলু, বেবি ফুড, মশারি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে একাধিক গাড়িতে করে ত্রাণ ভূতনির উদ্দেশে রওনা দেয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুরি, ব্যবসায়ী উজ্জ্বল সাহা ও উত্তম বসাক।
ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ, এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক
এদিকে ভূতনিতে ত্রাণ ও প্রশাসনিক পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। রবিবার উত্তর চণ্ডীপুরের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ও ত্রাণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল। বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে খাবার, চিকিৎসা ও ত্রিপলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রান্না করা খাবার মিললেও শুকনো খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ত্রিপল নিয়েও অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। (Bhutni Flood)
বিধায়ক জানান, প্রায় ৩০ হাজার পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। রিলিফ সেন্টারগুলিতে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। চিড়ে, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, দুধ ও শিশুদের ড্রাই ফুড পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি বুথে নৌকা ও আলোর ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটরও বসানো হবে।খাবার জলের সমস্যার সমাধানে পিএইচই-কে ট্যাঙ্কারের জল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনারেল ওয়াটারের জারও পাঠানো হচ্ছে বলে জানা যায় । সিভিল ডিফেন্স, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও পুলিশকর্মীরা নৌকায় করে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতির নজরদারি করছেন বলে জানা যাচ্ছে।










1 thought on “জলবন্দি ভূতনি, ত্রাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ, আসরে বিধায়ক থেকে ব্যবসায়ীক সংগঠন”