বরাদ্দ টাকা না আসায় তিন দিন বন্ধ থাকল বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলের মিড ডে মিল। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি মিলিয়ে এই স্কুলে মিড ডে মিলের আওতায় রয়েছে ৩২৫ জন পড়ুয়া। স্কুল সূত্রের দাবি, জুন মাসের পর থেকে মিড ডে মিলের টাকা আর আসেনি। বারবার আবেদন করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে মুদির দোকান-সহ বিভিন্ন জায়গায় ধার বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে গত বুধবার থেকে মিড ডে মিল বন্ধ করে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। (Mid Day Meal Crisis)
তিন মাস ধরে টাকার সমস্যা
স্কুলের মিড ডে মিলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা সহকারী শিক্ষক প্রদীপ হালদার জানান, প্রায় তিন মাস ধরে টাকা না পাওয়ায় ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও নিজেদের টাকা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঘাটতি ছিল। সেপ্টেম্বরেও আরও ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। (Mid Day Meal Crisis)
প্রদীপ হালদারের বক্তব্য, জুলাই মাসে অন্যান্য স্কুল টাকা পেলেও তাঁদের স্কুলে টাকা ঢোকেনি। অগস্টে দ্রুত ইউসি জমা দিলে টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। পুরসভার তরফে টাকা পাঠানোর কথা বলা হলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তা জমা পড়েনি। ১৫ সেপ্টেম্বর একটি অ্যালটমেন্ট হওয়ার কথাও স্কুলের কাছে রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দের মেসেজ এলেও ব্যাঙ্কে টাকা জমা হয়নি বলে তাঁর দাবি।
দোকানদারেরও বকেয়া
স্কুলের মুদিখানার সামগ্রী সরবরাহকারী মনোজ কুমার গুপ্তা জানান, প্রায় দুই-তিন মাসের টাকা বাকি রয়েছে। বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আর ধার দেওয়া সম্ভব নয় বলেও স্কুলকে জানিয়েছেন তিনি। (Mid Day Meal Crisis)
শিক্ষকদের টাকায় ফের রান্না
বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট তিন দিন মিড ডে মিল বন্ধ ছিল। পরে জেলা শিক্ষা দপ্তর থেকে স্কুলে ফোন করে তিন-চার দিনের মধ্যে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাসের পর শনিবার শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের টাকা তুলে রান্নার ব্যবস্থা করেন। শনিবার পড়ুয়াদের জন্য খিচুড়ি, আলু ভাজা ও পাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলের ইনচার্জ বাসন্তী মুখার্জি জানান, টাকা না আসায় মিড ডে মিল বন্ধ করতে হয়েছিল। উপরমহলের আশ্বাস পাওয়ার পর ফের রান্না শুরু হয়েছে।
প্রদীপ হালদারের কথায়, নতুন করে টাকা না এলে এক সপ্তাহের বেশি এইভাবে মিড ডে মিল চালানো সম্ভব নয়। শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যোগে আপাতত কয়েক দিন ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে মিড ডে মিল চালাতে মিড ডে মিলের বরাদ্দ টাকা দ্রুত পাওয়া জরুরি বলে জানান তিনি। (Mid Day Meal Crisis)












2 thoughts on “টাকা না আসায় তিন দিন মিড ডে মিল বন্ধ, শিক্ষকদের টাকায় রান্না ৩২৫ পড়ুয়ার”
Comments are closed.