দৌড়ের ট্র্যাক থেকে সাঁতারের জল। তারপর ১৮০ কিলোমিটারের সাইকেল যাত্রা। একবার নয়, মাত্র ছ’দিনের ব্যবধানে এই কঠিন পরীক্ষা দু’বার পেরোলেন মিলিন্দ সোমান। বয়স তাঁর ৬০। ১৩ সেপ্টেম্বর Ironman Wales শেষ করার পর ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি অংশ নেন Ironman Italy-তে। আর এই দুই প্রতিযোগিতার মাঝের মাত্র ছ’দিনের বিশ্রামই হয়ে উঠল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। (Milind Soman)
ছ’দিনে কতটা পথ পেরোলেন?
একটি পূর্ণ আয়রনম্যান ট্রায়াথলনে থাকে ৩.৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২.২ কিলোমিটার দৌড়। অর্থাৎ দুই প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সোমান সাঁতার কেটেছেন ৭.৬ কিলোমিটার। সাইকেল চালিয়েছেন ৩৬০ কিলোমিটার। দৌড়েছেন ৮৪.৪ কিলোমিটার। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে সোমান জানান, দ্বিতীয় আয়রনম্যান তাঁর কাছে ছিল শরীরের রিকভারি ক্ষমতা বোঝার সুযোগ। নির্দিষ্ট শারীরিক চাপের পর আবার একই স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে শরীরের কতটা সময় লাগে, সেটিই বুঝতে চেয়েছিলেন তিনি।
Ironman Wales-ও সহজ ছিল না। সাঁতার, খাড়া রাস্তায় সাইক্লিং এবং পাহাড়ি দৌড়ের পথকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলে বর্ণনা করেছেন সোমান।
বয়স বাড়লে কেন জরুরি রিকভারি?
সোমানের অভিজ্ঞতা আরও একটি বিষয় সামনে আনে। শরীরচর্চার পাশাপাশি শরীরকে সেরে ওঠার সময় দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম, খাবার, জল এবং বিশ্রামের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও প্রোটিন
শরীরের রিকভারিতে ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। (Milind Soman)সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এড়ানো উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা দরকার। ডিম, দুধ, ডাল, সয়া, মাছ ও মুরগির মতো খাবার থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে ব্যক্তির বয়স, ওজন, স্বাস্থ্য এবং শরীরচর্চার মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজন বদলাতে পারে।
জল, হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রাম
দীর্ঘক্ষণ শরীরচর্চায় ঘামের সঙ্গে জল ও ইলেকট্রোলাইট কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। দীর্ঘ বা কঠিন ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সোডিয়াম-সহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের দিকেও নজর দিতে হয়। তবে রিকভারি মানেই সারাদিন শুয়ে থাকা নয়। হালকা হাঁটা, ধীরে সাইকেল চালানো বা স্বাভাবিক গতিতে সাঁতার শরীরকে সচল রাখতে পারে। (Milind Soman)
ক্লান্তিকে অবহেলা নয়
টানা ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক পেশির ব্যথা, ঘুমের সমস্যা বা বিশ্রামের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে শরীরচর্চার চাপ কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়ানো প্রয়োজন।
শুধু পেশি নয়, অতিরিক্ত ব্যায়ামে স্নায়ুতন্ত্রও চাপের মধ্যে পড়ে। তাই গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান বা কিছুটা সময় সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকাও রিকভারি -এর অংশ। সোমানের দুই আয়রনম্যান-এর অভিজ্ঞতা যেন সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল। (Milind Soman)













2 thoughts on “মাত্র ৬ দিনের ব্যবধানে দুটো আইরনম্যান ইভেন্ট, ৬০ বছরেও ফিট থাকার টিপস শেয়ার মিলিন্দের”
Comments are closed.