৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচের দিকে নামতে শুরু করেছিল বিমান। ককপিটের ভিতর তখন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সহ-চালকের ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েও হাল ছাড়েননি তিনি। নিজের প্রাণের কথা না ভেবে ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সাহসিকতা এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের তৎপরতায় বেঁচে গেলেন বিমানে থাকা ১৭৪ জন।
Captain Smit Machchhar: সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতেও কাবু হননি স্মিত
বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 উড়ান। হঠাৎ মাঝ আকাশে দুই চালকের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সহ-চালকের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন ক্যাপ্টেন স্মিত। সেই সময় ছুরি নিয়ে তাঁর উপর হামলা করেন কো-পাইলট। এরপর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। প্রায় ২ মিনিটে ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায় বিমান।
তীব্র আতঙ্কের মধ্যেই রক্তাক্ত স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেন। কয়েকজন যাত্রী এবং এক বিমানকর্মী ভিতরে ঢুকে দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে ককপিটের মেঝে। দুই চালকের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছে। অভিযোগ, সহ-চালক বিমানটি ধ্বংস করে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা কোনও মতে তাঁকে কাবু করেন। বিমানে থাকা দু’জন অফ-ডিউটি পাইলটের সাহায্যে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। পরে অভিযুক্ত চালককেও গ্রেফতার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মিতের প্রশংসা নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে স্মিতের সাহসিকতা। ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক তাঁকে সরাসরি ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে স্মিত যাত্রীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেন। ভারতীয়, ইজরায়েলি এবং আমিরশাহী—তিন দেশের মানুষের সম্মিলিত সাহসেই ১৭৪টি প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
স্মিতের প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘এই ঘটনায় বহু প্রাণ বেঁচেছে। ক্যাপ্টেন স্মিত একজন আসল হিরো’।
সহ পাইলটকে ছুড়ির কোপ, কী ঘটেছিল বিমানে?
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্মিতের প্রশংসা করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্টে লিখেছেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন হিরো। চরম বিপদের মুখে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস ও সংকল্প প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর বীরত্ব শত শত জীবন বাঁচাতে এবং একটি ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছিল।
ভারত ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে (Captain Smit Machchhar) নিয়ে গর্বিত। তাঁর দ্রুত আরোগ্য, নতুন শক্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।”
উল্লেখ্য, বিমান চালক হিসাবে অভিজ্ঞতাও কম নয় স্মিতের। ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ১১ বছর স্পাইসজেটে ছিলেন তিনি। বোয়িং ৭৩৭ উড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার। তবে এমন চরম বিপদের মুহূর্তেও তাঁর ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্তেই যে এতগুলি প্রাণ বাঁচালো, তা বলাই যায়। তাই বিভিন্ন মহলে তিনিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।












1 thought on “ছুরির আঘাতেও হাল ছাড়েননি, ১৭৪ প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত”
Comments are closed.